শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি ও শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের পুনর্গঠন সংক্রান্ত অপ্রকাশিত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের ২০তম কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শি জিনপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী শাসনকালের পরবর্তী নেতৃত্বের গঠন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে; বিশেষত বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বহুপাক্ষিক আলোচনায় চীনের অবস্থান পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে।
চীনের রাজনৈতিক কাঠামোতে পার্টি কমিটির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যুরো (সিপিবি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা, এবং শি জিনপিংয়ের শাসনকালে শীর্ষ পদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে সমর্থন প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮ সালে শি জিনপিংয়ের শাসনকাল সীমা বাতিলের পর থেকে পার্টি সংবিধানে কোনো মেয়াদসীমা না থাকায় শি নিজেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা বজায় রেখেছেন। বর্তমান সময়ে লি চিয়াং, ওয়াং হুনিং ও ঝাও লেইজি প্রমুখকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়; এদের মধ্যে লি চিয়াংকে অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রধান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চীনা সরকার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে সতর্কতা বজায় রেখেছেন এবং পার্টি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্লেষক ও গবেষকরা শি জিনপিংয়ের পরবর্তী নেতৃত্বের গঠন চীনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও শি জিনপিংয়ের উত্তরসূরি সম্পর্কে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে; সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে, তবে অধিকাংশই পার্টি সংহতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিচ্ছে।
চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচন প্রক্রিয়া ২০২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে; পার্টি কমিটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ভোটদান প্রক্রিয়া গোপনীয়তা বজায় রাখবে। সরকার ইতিমধ্যে পরবর্তী কংগ্রেসের প্রস্তুতি গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশনা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রাখবে। ভবিষ্যতে নতুন নেতার নীতি দিকনির্দেশনা চীনের অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।