জয়পুরহাট জেলার ছাত্রদল গতকাল সন্ধ্যায় এক জরুরি সমাবেশের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক (ডিসি)কে অপসারণের দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে। সমাবেশে উপস্থিত শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় নাগরিকরা একতাবদ্ধভাবে ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসি পদত্যাগ না করেন, তবে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। এই দাবি মূলত জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষের ভিত্তিতে গৃহীত, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট বরাদ্দে বিলম্ব এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতি না হওয়া অন্তর্ভুক্ত। সমাবেশের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ হলেও, ছাত্রদলের মুখে দৃঢ় সংকল্প স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
জয়পুরহাটে ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি দীর্ঘদিনের। পূর্বে ২০১৯ সালে একই রকম দাবি নিয়ে ছাত্রদল জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়। তবে গত বছর থেকে ডিসি কর্তৃক গৃহীত কিছু নীতি, যেমন নতুন রোড নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোকে অগ্রাহ্য করা, তাদের মধ্যে অসন্তোষের সঞ্চার ঘটায়। এছাড়া, জেলা প্রশাসকের অফিসে সম্প্রতি কিছু সরকারি কর্মীর অবৈধ পদোন্নতি ও অনুদানের অস্বচ্ছতা প্রকাশ পায়, যা ছাত্রদলের দাবি শক্তিশালী করেছে। এই পটভূমি বিবেচনা করে, ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়।
সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাহুল চৌধুরী বলেন, 'ডিসি যদি আমাদের চাহিদা মেনে না নেন, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সীমা অতিক্রম না করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব'। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জেলার উন্নয়ন আমাদের দায়িত্ব, তাই আমরা ন্যায়সঙ্গত দাবি জানাচ্ছি'। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকগণও এই দাবিকে সমর্থন করে, কারণ তারা দাবি করেন যে ডিসি কর্তৃক গৃহীত কিছু নীতি তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থের ছদ্মবেশে দেখিয়ে সমালোচনা করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ প্রধানও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
জেলা প্রশাসকের অফিস এই দাবির প্রতি তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি জারি করে, যেখানে বলা হয়েছে যে ডিসি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, তিনি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা মান্য না করলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। সরকারী দিক থেকে, মন্ত্রিপরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে জেলা প্রশাসকের কাজের স্বচ্ছতা ও জনসেবা মান উন্নত করা যায়। ভবিষ্যতে, ছাত্রদল ও জেলা প্রশাসকের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়িত হবে কিনা তা সময়ই নির্ধারণ করবে।