‘কিং’ চলচ্চিত্রের মুক্তির পূর্বে শ্রীহরুখ খানকে গেরুয়া রঙে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্তটি জনমতকে উন্মত্ত করে তুলেছে। চলচ্চিত্রের প্রচারমূলক পোস্টার ও টিজার ভিডিওতে অভিনেতা গেরুয়া ত্বকের রঙে দেখা গেছেন, যা রঙবাদ ও ত্বকের রঙের প্রতি বৈষম্য সম্পর্কে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এই উপস্থাপনাকে ‘গেরুয়া’ রঙের অতিরঞ্জন ও ত্বকের রঙের প্রতি অবহেলা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। এই বিতর্কের ফলে চলচ্চিত্রের প্রচার কার্যক্রমে অস্থায়ী বিরতি এবং মিডিয়ার তীব্র অনুসন্ধান দেখা দিয়েছে।
রঙবাদী প্রবণতা ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যা, বিশেষ করে গেরুয়া রঙের অতিরঞ্জিত ব্যবহার অতীতেও বহুবার সমালোচনার শিকার হয়েছে। পূর্বে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ও ‘সাদা’ রঙের চরিত্রের ওপরও সমান ধরনের বিতর্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে শিল্পকর্মের নান্দনিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সমতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। গেরুয়া রঙের ব্যবহার প্রায়শই বর্ণনায় নায়কের শৌর্য ও আদর্শিক গুণকে জোরদার করতে ব্যবহৃত হয়, তবে আধুনিক সময়ে দর্শকরা এই পদ্ধতিকে পুরনো রঙবাদী মানসিকতার অবশিষ্ট হিসেবে দেখেন। তাই শ্রীহরুখের গেরুয়া রঙের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিবাদে জড়িত পক্ষগুলো বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করেছে। শ্রীহরুখ খান নিজে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে বলেন, গেরুয়া রঙটি চরিত্রের শারীরিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং কোনো রঙবাদী উদ্দেশ্য নেই। চলচ্চিত্রের পরিচালকও যুক্তি দেন, গেরুয়া রঙটি চরিত্রের নির্দিষ্ট সময়ের শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিল্পের স্বায়ত্তশাসনের অংশ। অন্যদিকে, রঙবাদ বিরোধী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে ‘ত্বকের রঙের বৈষম্যকে স্বাভাবিকীকরণ’ হিসেবে সমালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানায়। সাধারণ দর্শকগণও দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে; কিছুজন শ্রীহরুখের অভিনয়কে প্রশংসা করে, আবার অন্যরা রঙের অতিরঞ্জনকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।
বৈধ ও নৈতিক দিক থেকে বিষয়টি সমাধান করতে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিবি) ত্বরিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সিবিবি বর্তমানে পোস্টার ও টিজার ভিডিওতে গেরুয়া রঙের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করে সংশোধনের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে। পাশাপাশি, শিল্প সমিতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গোষ্ঠীও রঙের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মশালা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে রঙের ব্যবহারকে নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।