প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
NEWS 9
NEWS 9 Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | admin@mtechsolutionbd.com
আন্তজাতিক

হরমুজ সংকটেও ছয় মাস ধরে টিকে আছে তেলের বাজার, এভাবে আরও কত দিন

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সংকটের মাঝেও বিশ্ব তেলের বাজার অস্বাভাবিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 01:28 AM
হরমুজ সংকটেও ছয় মাস ধরে টিকে আছে তেলের বাজার, এভাবে আরও কত দিন

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সংকটের মাঝেও বিশ্ব তেলের বাজার অস্বাভাবিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, এই স্থিতিশীলতা কত দিন টিকে থাকবে। যদিও যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি অনুভূত হচ্ছে, তবুও বাজারের এই অপ্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশ্বে জ্বালানি চাহিদা এবং সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা এখনো কার্যকরী হলেও, ভবিষ্যতে আরও কত দিন এই অবস্থা টিকবে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এই স্থিতিশীলতার পেছনে রয়েছে জটিল নেপথ্যের পটভূমি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের প্রধান রাস্তা হওয়ায় এখানকার যেকোনো সামরিক সংঘাত সরাসরি তেলের দামে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকে। তবে এবারের ক্ষেত্রে, প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঞ্চিতি ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প সরবরাহ পথের ব্যবহারে সক্ষম হওয়ায় বাজারের দামে তীব্র ঝাঁকুনি আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তাদের কৌশলগত তেল সঞ্চিতি থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল ছাড়ার মাধ্যমে বাজারের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। এছাড়াও, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসার এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারে জ্বালানি চাহিদার হার কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

যদিও বাজার স্থিতিশীল থাকলেও, সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর বার্ষিক জ্বালানি খরচ গড়পড়তায় প্রায় ৮০০ ডলার বেড়েছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খরচ বৃদ্ধি সরাসরি খাদ্য, পরিবহন এবং শিল্পখাতের খরচে প্রতিফলিত হয়েছে, ফলে জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেতে শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যদিও তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে না ওঠায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এই অতিরিক্ত খরচ গৃহস্থালি বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। জনগণের মধ্যে জ্বালানি খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকরী সমাধানের দাবি জানাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্ররা হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সাথে, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থাগুলো জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরামর্শ দিচ্ছে এবং দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, যদি সামরিক সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করে বা সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে, তবে তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই বর্তমান স্থিতিশীলতা কেবল সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক আলোচনা এবং শক্তি নিরাপত্তা নীতিতে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ NEWS 9