প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
সারাদেশ

হারিয়ে যেতে বসা পোড়ামাটির পাট: ঐতিহ্যবাহী শিল্পের অস্তিত্ব সংকট

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পোড়ামাটির পাট তৈরির শিল্পকলা। তবে বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি ধীরে ধীরে হারিয়ে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 07 Nov 2026, 02:56 PM
হারিয়ে যেতে বসা পোড়ামাটির পাট: ঐতিহ্যবাহী শিল্পের অস্তিত্ব সংকট

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পোড়ামাটির পাট তৈরির শিল্পকলা। তবে বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে যেখানে একসময় পাটের চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি, সেখানে এখন সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আধুনিক প্লাস্টিক ও নাইলন তৈরি ব্যাগের প্রচলন বাড়ার ফলে পোড়ামাটির পাটের ব্যবহার কমে গেছে, যা এই শিল্পের অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করেছে। স্থানীয় শিল্পীরা দাবি করছেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং বাজারজাতকরণের অভাবের কারণে তারা আর এই শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন না।

পোড়ামাটির পাট তৈরির শিল্পটি বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে জড়িত। পূর্বের দিনগুলোতে গ্রামীণ অঞ্চলে চাল, ডাল, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য এই পাটের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এটি ছিল পরিবেশবান্ধব এবং সহজলভ্য। তবে আধুনিক যুগে প্লাস্টিকের প্রচলন বাড়ার সাথে সাথে এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জনপ্রিয়তা কমে যায়। পাশাপাশি, শিল্পীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ায় এই শিল্পচর্চা বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক শিল্পী এখন অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন, ফলে এই শিল্পের ধারা বজায় রাখতে অসমর্থ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় শিল্পী ও বাসিন্দারা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, পোড়ামাটির পাট শুধুমাত্র একটি পণ্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। এই শিল্পের বিলুপ্তি মানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাওয়া। অনেক শিল্পী জানান, চাহিদা থাকলে তারা এই শিল্পচর্চা চালিয়ে যেতে আগ্রহী, কিন্তু বাজারে পণ্য বিক্রি করতে তারা সমস্যায় পড়ছেন। জনসাধারণের মধ্যে এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ কম থাকায় শিল্পীদের আয়ও কমে যাচ্ছে, যা তাদের এই পেশায় থাকতে বাধা সৃষ্টি করছে।

কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প রক্ষায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শিল্পীদের প্রতি সহায়তা প্রদান এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় বাজারে বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন, অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং পর্যটকদের মধ্যে এই শিল্পের প্রচারণা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া, নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ জাগানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা উচিত। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে পোড়ামাটির পাটের শিল্পটি আবারও প্রাণবন্ত হতে পারে এবং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গর্বিত অংশ হিসেবে টিকে থাকবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ