প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
অর্থনীতি

হালাল বিনিয়োগ: কেন, কোথায় ও কীভাবে করবেন

বাংলাদেশে হালাল বিনিয়োগের প্রতি সম্প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন যৌথভাবে হালাল বিনিয়োগের জন্য নতুন ন
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 16, 2026 প্রিন্ট: 17 Oct 2026, 02:33 AM
হালাল বিনিয়োগ: কেন, কোথায় ও কীভাবে করবেন

বাংলাদেশে হালাল বিনিয়োগের প্রতি সম্প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন যৌথভাবে হালাল বিনিয়োগের জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করে প্রকাশ করেছে, যা দেশের আর্থিক বাজারে ইসলামী নীতি অনুসারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই নীতির মাধ্যমে মুসলিম বিনিয়োগকারীরা সুদ, জুয়া ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে মুক্ত, শুদ্ধ আর্থিক পণ্য ব্যবহার করে সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারবে। তৎক্ষণাৎ এই ঘোষণার ফলে শেয়ার বাজার, রিয়েল এস্টেট ও মিউচুয়াল ফান্ডে হালাল পণ্যগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হালাল বিনিয়োগের পটভূমি ইসলামী শারিয়া আইনের নীতিতে ভিত্তিক, যেখানে রিবা (সুদ) নিষিদ্ধ এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়। পূর্বে দেশে হালাল বিনিয়োগের জন্য স্পষ্ট কাঠামো না থাকায় বহু মুসলিম বিনিয়োগকারী বিদেশি বাজারে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছিল। বিশ্বব্যাপী ইসলামী আর্থিক খাতের দ্রুত বৃদ্ধি, বিশেষত মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হালাল পণ্যের জনপ্রিয়তা, বাংলাদেশকে এই প্রবণতায় যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সরকার এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হালাল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া গড়ে তুলছে, যাতে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী উভয়ই স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা পায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের মতে, হালাল বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ রশিদ বলেন, “হালাল বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পদ সঞ্চয় করা।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে হালাল ফান্ডে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি তাদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও ন্যায্য মুনাফার সুযোগ দেবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে হালাল বিনিয়োগের ধারণা ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, বিশেষত যারা ধর্মীয় নীতি মেনে আর্থিক সুরক্ষা চান।

কর্তৃপক্ষ হালাল বিনিয়োগের জন্য বিশেষ একটি তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্যে আর্থিক বিশেষজ্ঞ, ইসলামিক পণ্ডিত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটি হালাল পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ, সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করবে। পাশাপাশি, সরকার হালাল বিনিয়োগের জন্য কর সুবিধা, সহজলভ্য ঋণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের বাধা কমাবে। ভবিষ্যতে হালাল বিনিয়োগকে দেশের মূলধন বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ