প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
NEWS 9
NEWS 9 Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | admin@mtechsolutionbd.com
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তার চুরি, আসামি রঞ্জন চন্দ্রের জামিন

ঢাকা শহরের রেড টেলিফোনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ তার চুরি হয়েছে। রেড টেলিফোন, যা সরকারের জরুরি যোগাযোগের মূল সোপান, আজ বিকালের প্রথম দিকে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 17, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 03:06 AM
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তার চুরি, আসামি রঞ্জন চন্দ্রের জামিন

ঢাকা শহরের রেড টেলিফোনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ তার চুরি হয়েছে। রেড টেলিফোন, যা সরকারের জরুরি যোগাযোগের মূল সোপান, আজ বিকালের প্রথম দিকে অজানা ব্যক্তির দ্বারা অপহৃত হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল সমীক্ষা করে এবং চুরি হওয়া তামার দৈর্ঘ্য ও প্রকার নির্ধারণ করে। ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিক থেকে তীব্র উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, চুরি হওয়া তারের পুনরায় ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত গুরুত্বের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, ফলে জরুরি কলের সেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে। এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

রেড টেলিফোনের ইতিহাস ১৯৬০ দশকে ফিরে যায়, যখন প্রথমবার সরকার জরুরি কলের জন্য বিশেষ লাইন স্থাপন করে। এরপর থেকে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্তরের জরুরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। পূর্বে একাধিকবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে রেড টেলিফোনের সংযোগস্থলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অবহেলার প্রতিবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিকায়নের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো তামার তারের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের অনুপযুক্ত সংযোজনই এই দুর্বলতার মূল কারণ। এছাড়া, রেড টেলিফোনের রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্বে থাকা বিভাগে মানবসম্পদ ঘাটতি ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সূত্রপাত করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রঞ্জন চন্দ্র চুরির স্বীকারোক্তি দেন এবং জানান তিনি কেব্‌ল থেকে তামা বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেছিলেন। রঞ্জনের মতে, তিনি অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এই অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন এবং কোনো রাজনৈতিক প্রেরণা নেই। অপরদিকে, পুলিশ রঞ্জনের জামিনের শর্তে তার জব্দকৃত সামগ্রী এবং লেনদেনের রসিদ সংগ্রহ করেছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা বাড়াতে আহ্বান জানায়। সাধারণ জনগণও রেড টেলিফোনের ব্যবহারে অস্থায়ী অসুবিধা অনুভব করে এবং সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বেশ কয়েকজন নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ রেড টেলিফোনের চুরি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং চুরি হওয়া তামা পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রঞ্জন চন্দ্রের জামিনের শর্তে তাকে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট দাখিল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, রেড টেলিফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে তামার পুরনো লাইনগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল সিস্টেমে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সরকারী নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিকন্তু, সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদারকি শক্তিশালী করে এবং জরুরি সেবা পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ NEWS 9