প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

আমাদের মেয়েরা কোথায় হারিয়ে যায়

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়েই দেশের পাঠকরা শীর্ষ শিরোনামে চোখ আটকে দিলেন: ‘নারীর প্রতি বৈষম্য বেড়েছে’। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 22, 2026 প্রিন্ট: 17 Oct 2026, 02:33 AM
আমাদের মেয়েরা কোথায় হারিয়ে যায়

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়েই দেশের পাঠকরা শীর্ষ শিরোনামে চোখ আটকে দিলেন: ‘নারীর প্রতি বৈষম্য বেড়েছে’। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ বৈষম্য বৃদ্ধির প্রবণতা প্রকাশ পায় এবং বাংলাদেশও এই তালিকায় প্রত্যাশার চেয়ে নিম্ন স্থানে অবস্থান করে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ-সুবিধা হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। এই প্রকাশনা দেশের নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তৎক্ষণাৎ আলোচনা শুরু করেছে।

গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দশকে বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতা ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি অর্জন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্রগতির হার ধীর হয়ে গেছে। ২০২২ সালে দেশটি ১২০তম স্থানে ছিল, যেখানে ২০২৪ সালে তা ১৩২তম স্থানে নেমে এসেছে। এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে শিক্ষার মানের পার্থক্য, গ্রামীণ এলাকায় নারীর কর্মসংস্থান সুযোগের সংকোচন, এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর প্রতিনিধিত্বের হ্রাস উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, মহামারীর পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নারীদের চাকরি হারানোর হার পুরুষের তুলনায় বেশি, যা লিঙ্গ বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা এই ফলাফলকে ‘সতর্ক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। লিঙ্গ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. রুবিনা হক বলেন, ‘প্রতিবেদনটি আমাদেরকে দেখাচ্ছে যে, নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবায়নে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে’। নারী অধিকার সংস্থার সভাপতি সুমাইয়া বেগম যুক্তি দেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নারীর প্রবেশাধিকার সীমিত হলে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়’। সরকারী কর্মকর্তারা রিপোর্টের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে কিছু নাগরিক মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্যে অভিযোগ করেন যে, এই সমস্যার সমাধানে বাস্তবিক পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। সাধারণ মানুষও সামাজিক মঞ্চে নারীর নিরাপত্তা ও সমতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক একমত যে, অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে লিঙ্গ বৈষম্য আরও গভীর হবে। সরকার ইতিমধ্যে ‘নারী ক্ষমতায়ন পরিকল্পনা ২০২৭’ চালু করেছে, যার মধ্যে শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ, গ্রামীণ উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, এবং রাজনৈতিক পার্টিতে নারীর কোটার বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, শ্রম মন্ত্রণালয় নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নতুন ট্যাক্স প্রণোদনা ও মাইক্রোফাইন্যান্স স্কিম চালু করার পরিকল্পনা করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা ও গবেষণা প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে লিঙ্গ সমতা সূচকে উন্নতি আনার জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ