প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
তথ্য প্রযুক্তি

খসড়া হুবহু পাস হয়ে গেলেও সরকার আওয়ামী লীগের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে না: তথ্য উপদেষ্টা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন পুনরায় সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংসদে খসড়া হুবহু পাস হলেও, তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে সরকার আওয়ামী লীগে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Sep 27, 2026 প্রিন্ট: 17 Oct 2026, 01:34 AM
খসড়া হুবহু পাস হয়ে গেলেও সরকার আওয়ামী লীগের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে না: তথ্য উপদেষ্টা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন পুনরায় সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংসদে খসড়া হুবহু পাস হলেও, তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে সরকার আওয়ামী লীগের মতোই এই আইনকে রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করবে না। নতুন সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’ কার্যকলাপকে পুনরায় ফৌজদারি অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সংশোধিত ধারা অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবমাননাকর মন্তব্য বা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের গৌরব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার জোর দিয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে গৃহীত হয়, তখনই অনলাইন মানহানির বিষয়টি অপরাধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে সময়ের সাথে সাথে সামাজিক মাধ্যমের বিস্তার ও অনলাইন ভ্রান্ত তথ্যের প্রাদুর্ভাব বাড়ার ফলে আইন প্রয়োগে ঘাটতি প্রকাশ পায়। পূর্ববর্তী সংশোধনীতে তথ্যপ্রযুক্তি নীতি সংক্রান্ত কিছু ধারা যোগ করা হলেও, মানহানি সংক্রান্ত স্পষ্ট বিধান না থাকায় নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি আইনকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর, সরকার এখন পুনরায় আইনকে শক্তিশালী করে অনলাইন অপরাধের মোকাবেলা করতে চাচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা মোহাম্মদ রশিদুল হক উল্লেখ করেন, ‘আইনের মূল উদ্দেশ্য হল অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ করা, রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা নয়’। বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা এই সংশোধনীকে ‘মুক্ত মত প্রকাশের ওপর আঘাত’ বলে সমালোচনা করেন এবং সংসদে কঠোর আলোচনা দাবি করেন। সাংবাদিক সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও সংশোধিত ধারার প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অনলাইন মানহানির শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েও, অতিরিক্ত শাস্তি আরোপে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

সরকার ইতিমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংশোধিত খসড়া পর্যালোচনা শুরু করেছে। কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে সংশোধনীকে সংসদে উপস্থাপন করবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন সংস্থা ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করবে। অনুমোদিত হলে, সংশোধিত আইনটি ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে কার্যকর হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনলাইন মানহানি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং আইন প্রয়োগে প্রশিক্ষিত আইসিটি পুলিশ ইউনিট গড়ে তোলার কথাও সরকার ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের ডিজিটাল পরিবেশকে সুরক্ষিত ও ন্যায়সঙ্গত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ