শাহরুখ খান পাঁচটি চলচ্চিত্রে ঐশ্বরিয়াকে বাদ দিয়েছেন বলে পুরোনো সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে কাজ না করার কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর দর্শক ও চলচ্চিত্র প্রেমিকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রেরণা ও শিল্পের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনাটির তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, এটি শিল্পের অভ্যন্তরে নারী অভিনেতাদের অবস্থান ও সমান সুযোগের প্রশ্নকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
ঐশ্বরিয়া রায়, যিনি ২০০০ দশকের শেষের দিকে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি করেন, তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বহু সফল প্রকল্পে কাজ করেছেন। তবে তার এবং শাহরুখের পূর্ববর্তী সহযোগিতা সীমিত ছিল, এবং শিল্পে পুরুষ প্রধান চরিত্রের সঙ্গে নারী সহ-অভিনেতার সমন্বয় প্রায়শই বাজারের চাহিদা ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত হয়। অতএব, পাঁচটি চলচ্চিত্রে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি শিল্পের ঐতিহ্যগত কাঠামো ও বাণিজ্যিক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যদিও তা প্রকাশ্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
ঐশ্বরিয়া রায় প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাননি এবং এই বিষয়টি তার পেশাগত আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। শিল্পের সহকর্মী ও সমালোচকরা এই ঘটনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে, একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মিডিয়ায় দর্শকরা ব্যাপকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন, যেখানে কিছুজন শ্রীমতি রায়ের পেশাগত মর্যাদা রক্ষার পক্ষে তাগিদ দিচ্ছেন, অন্যদিকে কিছুজন শিল্পের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট গিল্ডগুলো এই বিষয়টি তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শিল্পের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে সমান সুযোগের নীতি কার্যকর করার জন্য কর্মশালা, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং শিল্পের অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে শিল্পের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।