প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
অর্থনীতি

লোকসানে রয়েছে ২২ ব্যাংক, ৪টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন

মার্চ ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতির পরিমাণ ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ২২টি ব্যা
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 5, 2026 প্রিন্ট: 17 Oct 2026, 02:53 AM
লোকসানে রয়েছে ২২ ব্যাংক, ৪টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন

মার্চ ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতির পরিমাণ ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ২২টি ব্যাংকই লোকসানে রয়েছে, যার মধ্যে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকও অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকিং সেক্টরের এই বিশাল ক্ষতি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাসের সম্ভাবনা উন্মোচিত করে। এই তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে শেয়ার মূল্যের পতন এবং ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক খাতের এই বর্তমান অবস্থার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পূর্ববর্তী কয়েক বছরে নন‑পারফরমিং লোনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপরি, বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধের ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা ব্যাংকের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্তভাবে, কিছু রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং অব্যবস্থাপিত সম্পদও ক্ষতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এইসব কারণের সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেক্টরের মুনাফা হ্রাস পেয়ে নিট ক্ষতির দিকে ধাবিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর শ্রীমতি রেহানা হক, ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করে বলেন, “বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক”। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব জহিরুল হকও উল্লেখ করেন, “সরকার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের পুনর্গঠন ও মূলধন সঞ্চয় পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করবে”। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিইওগণও তাদের আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতি দেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই খবর শোনার পর ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে দেরি পেমেন্টের উদ্বেগ এবং সঞ্চয়কারীদের মধ্যে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনর্গঠন নীতি শিথিল করে এবং নন‑পারফরমিং লোনের পুনরায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের জন্য অতিরিক্ত মূলধন সঞ্চয়ের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর রিপোর্টিং সিস্টেম প্রবর্তন করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমন্বিতভাবে আর্থিক শাসনবিধি শক্তিশালী করবে, তদুপরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের পুনর্গঠন ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করবে। এই পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং সেক্টরের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ