প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

কিশোরগঞ্জের ৪০০ বছরের পুরোনো ‘ঢাকের হাট’ জমে উঠেছে দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী গ্রামে ঐতিহাসিক ‘ঢাকের হাট’ পুনরুজ্জীবিত হয়ে দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে জমে উঠেছে। শতবর্ষের পুরোনো এই হাটে ঢাকের চাহিদা মেটাতে বিশাল
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 16, 2026 প্রিন্ট: 18 Oct 2026, 04:54 AM
কিশোরগঞ্জের ৪০০ বছরের পুরোনো ‘ঢাকের হাট’ জমে উঠেছে দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী গ্রামে ঐতিহাসিক ‘ঢাকের হাট’ পুনরুজ্জীবিত হয়ে দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে জমে উঠেছে। শতবর্ষের পুরোনো এই হাটে ঢাকের চাহিদা মেটাতে বিশাল পরিমাণে ঢাক বিক্রি হচ্ছে; পূজারিরা মণ্ডপের জন্য বিশেষভাবে চুক্তিবদ্ধ ঢাক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এখানে সমবেত হচ্ছেন। হাটের গলিতে রঙিন প্যানেল, গাছের ছায়া এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠের স্টলগুলোতে ঢাকের বিভিন্ন ধরণ—মুক্তি, মন্দির, শঙ্কর—প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পূজারিরা সরাসরি পরীক্ষা করে পছন্দের ঢাক বেছে নিতে পারেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে নতুন প্রাণ দিচ্ছে এবং দুর্গাপূজার আচার-অনুষ্ঠানে ঢাকের গুরুত্ব পুনরায় জোরদার হচ্ছে।

‘ঢাকের হাট’ের উৎপত্তি প্রাচীন কালের, যখন কিশোরগঞ্জের বাণিজ্যিক পথের সঙ্গে যুক্ত এই অঞ্চলটি ঢাক নির্মাতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে। শতাব্দী পর শতাব্দী, হাটটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পী ও গ্রাহকদের আকর্ষণ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিকীকরণ ও নগরায়নের প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী হাটের পতন দেখা গিয়েছিল; বিক্রেতারা শহরের বড় বাজারে স্থানান্তরিত হচ্ছিলেন এবং হাটের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। দুর্গাপূজার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মন্ত্রণালয় ও সাংস্কৃতিক সংস্থা হাটের পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে, যাতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের শিল্প পুনরায় জীবন্ত হয় এবং গ্রাম্য অর্থনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

হাটে উপস্থিত পূজারিরা, শিল্পী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মন্তব্যে স্পষ্ট দেখা যায় যে, এই ঐতিহ্যবাহী হাটের পুনরুজ্জীবন তাদের জন্য একধরনের সাংস্কৃতিক পুনঃসংযোগের সুযোগ। এক পূজারি বলেন, “ঢাকের হাট ছাড়া দুর্গাপূজা সম্পূর্ণ হয় না; এখানে পাওয়া ঢাকের গুণমান ও ঐতিহ্যই আমাদের মণ্ডপের সুরকে সমৃদ্ধ করে।” হাটের বিক্রেতা রশিদুল হক জানান, “বছরের পর বছর এই হাটে ঢাক বিক্রি করে আমরা গর্ববোধ করি; এবার পূজারিরা সরাসরি এখানে এসে ঢাক বেছে নিলে আমাদের ব্যবসা পুনরায় উজ্জ্বল হবে।” স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুবকরা হাটের পাশে আয়োজন করা কর্মশালায় অংশ নিয়ে ঢাকের নির্মাণ প্রক্রিয়া শিখছেন, যা ভবিষ্যতে শিল্পের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ হাটের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা হাটের চারপাশে অস্থায়ী পার্কিং, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা গার্ডের ব্যবস্থা করেছে; পাশাপাশি হাটের বিক্রেতাদের জন্য লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যবিধি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় হাটের পুনরুজ্জীবনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে ঢাক নির্মাতাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং আধুনিক বাজারের চাহিদা মেটাতে পারে। ভবিষ্যতে এই হাটকে জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা কিশোরগঞ্জের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ