প্রধানমন্ত্রী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত নতুন নীতি সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আজ (১৮ অক্টোবর) একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত বছর মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে। এই পরিমাণে গৃহস্থালি, রেস্টুরেন্ট, হসপিটাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে খাদ্য বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অপচয়ের ফলে কেবলমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, পরিবেশগত ভারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তীব্র উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই মাত্রা দেশের গড় গৃহস্থালি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় তিন গুণ বেশি। ফলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ণ করে।
খাবার অপচয়ের সমস্যাটি নতুন নয়; পূর্ববর্তী দশকে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো ও অন্নবিতরণ সংস্থা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্তরের বর্জ্য রেকর্ড করেছে। ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে গৃহস্থালি স্তরে গড়ে প্রতি পরিবার বছরে প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম খাবার নষ্ট করেছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশের সমান। প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত কেনাকাটা, সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির অভাব এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে পণ্যের দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে সঠিক শীতলকরণ সুবিধার অভাব, অপচয়ের হার বাড়িয়ে তুলেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রী ডা. রুবেল হোসেন উল্লেখ করেছেন, 'খাবার অপচয় শুধুমাত্র অর্থের ক্ষতি নয়, এটি মানবিক দায়িত্বের লঙ্ঘন'। একই সঙ্গে, জাতীয় অন্নবিতরণ সংস্থার প্রধান শ্রীমতি সুমাইয়া বেগম জোর দিয়ে বলেছেন, 'খাবার বাঁচাতে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি'। এনজিও 'খাদ্য সুরক্ষা' এর প্রতিনিধি রাহুল চৌধুরী উল্লেখ করেন, 'বাজারে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি না করা এবং রেস্টুরেন্টে অংশীদারিত্বমূলক খাবার ভাগাভাগি করা সমাধানের অংশ হতে পারে'। সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়, সামাজিক মিডিয়ায় #খাবার_বাঁচাও হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রচার বাড়ছে এবং বহু পরিবার বাড়িতে খাবার সংরক্ষণে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি নীতি প্রণয়ন করেছে; প্রথমত, ২০২৪ সালের শেষের মধ্যে সব পাবলিক ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার বর্জ্য কমাতে বাধ্যতামূলক 'বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা' কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষক ও সরবরাহকারীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে শীতলকরণ সুবিধা প্রদান এবং ডিজিটাল বাজার সংযোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, গৃহস্থালি স্তরে খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পর্কে জাতীয় প্রচারাভিযান চালু করা হবে, যেখানে টেলিভিশন, রেডিও ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষামূলক ভিডিও ও কর্মশালা পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে, সরকার খাদ্য বর্জ্য কমাতে আন্তর্জাতিক মানের 'ফুড ওয়েস্ট হ্রাস' মানদণ্ড গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।