সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক একজোট পুনরায় গঠন করে হুতিদের অগ্রগতি থামাতে প্রস্তুত হওয়ায় ইয়েমেনের যুদ্ধের গতিপথে নতুন মোড় আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে রিয়াদে একত্রিত হয়ে যৌথ কৌশল নির্ধারণের জন্য জরুরি সভা করেন এবং হুতিদের সামরিক শক্তি হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন আকাশ ও স্থলবাহিনীর সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইয়েমেনের মানবিক সংকটকে আরেকটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচন করে, ফলে সংঘাতের বিস্তার রোধে ত্বরিত কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের মূল পটভূমি ২০১৪ সালে হুতিদের অগ্রগতি এবং সানায়া সরকারকে ত্যাগ করার পর থেকে শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত বহুজাতিক একজোট হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সূচনা করে, তবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় একজোটের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সমর্থন পেয়ে একজোটের আকাশবাহিনীর কার্যক্রম সীমিত হলেও, হুতিদের রকেট ও ড্রোন আক্রমণ বাড়ার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির শীর্ষে পৌঁছায়। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুনরায় একত্রিত হওয়া পূর্বের ব্যর্থতা থেকে শিখে নতুন কৌশল প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে রিয়াদের প্রধানমন্ত্রী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই হুতিদের আক্রমণকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে, এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ মানবিক করিডোর গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। হুতিদের মুখপাত্রও তীব্র সমালোচনা করে, বলছেন যে একজোটের পুনর্গঠন অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলবে এবং বেসামরিক জনগণের ক্ষতি বাড়াবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে এই ঘোষণার পর মানবিক সহায়তার প্রবাহে সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং যুদ্ধবিরতির জন্য ত্বরিত কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রের মতে, বর্তমান একজোটের গঠন কেবল সামরিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাজনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণের একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে হুতিদের মূল ঘাঁটি এলাকায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং শুরু করেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক সহায়তার নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি একজোটের কার্যক্রম সফল হয়, তবে ইয়েমেনের যুদ্ধের ধারা পরিবর্তিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে; অন্যদিকে, ব্যর্থতা হলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বাড়বে।