প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
অর্থনীতি

১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য মাত্র ৪০ কোটি চাকরি: কর্মসংস্থানের গভীর সংকট

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের একটি গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অজয় বাঙ্গা। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে প্রায়
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 18, 2026 প্রিন্ট: 18 Oct 2026, 10:40 PM
১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণের জন্য মাত্র ৪০ কোটি চাকরি: কর্মসংস্থানের গভীর সংকট

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের একটি গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অজয় বাঙ্গা। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তির শ্রেণিতে যুক্ত হবেন, কিন্তু একই সময়ে দেশে মাত্র ৪০ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই বিশাল ব্যবধানটি দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপথ বজায় রাখলে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ কর্মহীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

এই কর্মসংস্থানের ঘাটতির পেছনে রয়েছে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাব। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং এর একটি বিশাল অংশই তরুণ। অন্যদিকে, দেশের শিল্পখাত, সেবামূলক খাত এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, স্থানীয় বাজারের সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদনশীলতার নিম্নমুখী হার এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সৃষ্ট চাকরির সংখ্যা জনশক্তির চাহিদার সাথে মিল খাচ্ছে না, যা একটি কাঠামোগত অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনীতিবিদ অজয় বাঙ্গা এই বিষয়ে বলেন, কর্মসংস্থানের এই ঘাটতি একটি পূর্বাভাস মাত্র, এটি কোনো অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়। তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি পুঁজির বিনিয়োগ, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা দিচ্ছে। তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতা বেড়ে যাওয়ায় মানসিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শিক্ষিত তরুণরাও এখন কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে যাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন, যা দেশের মানবসম্পদ হ্রাসের একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগেই এই বিশাল ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। ভবিষ্যতে যদি এই সমন্বিত পদ্ধতিতে অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়, তবে দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও সুদৃঢ় হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ