বাংলাদেশের পর্যটন খাতে রিসোর্টগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘনঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটাতে শুরু করেছে, যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা কেবম প্রাণহানির ঝুঁকিই নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছে। প্রতিবারই দেখা যায়, রিসোর্টগুলোয় আগুন লাগলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে করে রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
রিসোর্টগুলোয় অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি, রান্নাঘরের অসতর্কতা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতি বা অকার্যকারিতা চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রিসোর্টগুলো নির্মাণের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ না করা এবং পরবর্তীতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না নেওয়া এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেয়ে উঠে আসছে। এছাড়াও, রিসোর্টগুলোয় ব্যবহৃত কাঠামোগত উপকরণের মানসম্মত না হওয়া এবং বৈদ্যুতিক তারের পুরনো হয়ে যাওয়াও আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।
সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরকারি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পর্যাপ্ত তদারকি না করা এবং নিরাপত্তা বিধি মানতে বাধ্য করা না হওয়ায় তারা এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, জনসাধারণের মধ্যে এই ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দাবি করছেন, রিসোর্ট ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়াও, পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পর্যটন সংগঠনগুলো।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানা গেছে, আগামীতে রিসোর্টগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে এবং নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। এছাড়াও, রিসোর্টগুলোয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে পর্যটন খাতের সব প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে বাধ্য করা হবে এবং যারা নিয়ম না মানবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।