প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
বিনোদন

বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৯৮ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক গীতিকর্মের জন্য সফররত আইয়ুব বাচ্চু, কনসার্টের পর একটি বিশাল শপিং মলে গিটার প্রদর্শনী ঘিরে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে প্র
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 18, 2026 প্রিন্ট: 18 Oct 2026, 10:39 PM
বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৯৮ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক গীতিকর্মের জন্য সফররত আইয়ুব বাচ্চু, কনসার্টের পর একটি বিশাল শপিং মলে গিটার প্রদর্শনী ঘিরে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি একটি বিশাল গিটার দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গিটার পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। দোকানের এক কর্মী, যিনি বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করে 'বাংলাদেশের গিটার শিল্প দুর্বল' বলে উল্লেখ করেন, তা শুনে উপস্থিত দর্শক ও কর্মচারীরা হেসে ওঠে। এই তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব ছিল আইয়ুবের গিটারের প্রতি গভীর আসক্তি ও গর্বকে উস্কে দেওয়া, যা পরবর্তীতে একটি স্মরণীয় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত গিটারবাদক, যিনি ১৯৮০ দশকের শেষের দিকে দেশীয় সঙ্গীত জগতে গিটারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তার গিটারের প্রতি অদম্য আকর্ষণ ও অনন্য শৈলী তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করায়। ১৯৯৮ সালের নিউইয়র্ক সফর তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল; সেখানে তিনি পশ্চিমা শৈলীর সঙ্গে নিজস্ব বাংলা সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে সঙ্গীতের নতুন রূপ তৈরি করেন। গিটারের নতুন ব্র্যান্ডের প্রতি তার কৌতূহল ও হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার প্রবণতা তার সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পের প্রতি নিবেদনকে প্রতিফলিত করে। তাছাড়া, সেই সময়ে বাংলাদেশে সঙ্গীত শিল্পের অবকাঠামো এখনও বিকাশের প্রাথমিক স্তরে ছিল, ফলে বিদেশে তার সাফল্য দেশীয় শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

দোকানের তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্যের মুখে আইয়ুব বাচ্চু তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'গিটার যেকোনো দেশের হতে পারে, তবে তার সুরে যদি আত্মা থাকে, তবে তা সবারই গর্বের বিষয়'। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দোকানের গিটারের একটি নতুন মডেল হাতে নিয়ে সুরে সুরে বাজিয়ে দেখান যে, গুণমানের পার্থক্য সুরের মাধুর্যে নয়, বরং শিল্পীর দক্ষতায় নির্ভর করে। তার এই দৃঢ় ও সৃজনশীল প্রতিক্রিয়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা পায়। নিউইয়র্কের বাংলাদেশী সম্প্রদায় এই ঘটনাকে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে গ্রহণ করে, সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমর্থনমূলক মন্তব্যের স্রোত তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশী সঙ্গীত সংস্থা ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় আইয়ুব বাচ্চুর এই সাফল্যকে তুলে ধরে গিটার শিল্পের উন্নয়নের জন্য নীতি প্রণয়ন শুরু করে। গিটার শিক্ষার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, আন্তর্জাতিক গিটার নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়। ভবিষ্যতে এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্যের মুখে গর্বের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতিকে বিশ্ব মঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা যায়। আইয়ুবের এই উদাহরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, যা দেশের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ