নাটোর জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন দাখিল করেছে, যা বিএনপি দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) পুত্র নূরুজ্জামানকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আবেদনটি শাকিল ইসলাম নামের ছাত্রদল নেতার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন নূরুজ্জামানের ওপর পূর্বে গৃহীত রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় করা হয়েছে। ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, তদন্তে নতুন প্রমাণ ও সাক্ষীর তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার জটিলতা ও গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। আদালতকে এই প্রমাণের ভিত্তিতে রিমান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করার অনুরোধ করা হয়েছে।
শাকিল ইসলাম, যিনি নাটোরের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতা, ২০২৩ সালের শেষের দিকে তার গৃহে হিংসাত্মকভাবে নিহত হন। ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির ক্যালিবার ও গুলি‑চিহ্নের বিশ্লেষণ থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে নূরুজ্জামানকে চিহ্নিত করা হয়। পূর্বে নূরুজ্জামানকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়, তবে রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে, তদন্তে নতুন সাক্ষীর বর্ণনা ও ফোন রেকর্ডের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নূরুজ্জামানের সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা রিমান্ডের পুনরায় আবেদনকে যুক্তিসঙ্গত করে তুলেছে।
বিএনপি জেলাভিত্তিক নেতারা, বিশেষ করে জেলা সভাপতি ও স্থানীয় সংগঠকগণ, নূরুজ্জামানের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, “এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে; ন্যায়বিচারকে দমন করে আমাদের দলীয় সদস্যের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট এমপি নূরুজ্জামানের পিতা, জনসাধারণের সামনে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আমার পুত্রের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকলে, তাকে রিমান্ডে নেওয়া উচিত নয়।” স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে বিভক্ত মতামত দেখা যায়; কিছু পরিবার ও ছাত্রগণ ন্যায়বিচার দাবি করে, আবার অন্যরা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে এই মামলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে।
অধিকর্তা, নাটোর জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা জেলায়ের আদালত, ডিবি কর্তৃক জমা দেওয়া নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে রিমান্ডের আবেদন পর্যালোচনা করবে। আদালত ইতিমধ্যে রিমান্ডের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীর মতামত শোনার ব্যবস্থা করেছে। ভবিষ্যতে, যদি রিমান্ড অনুমোদিত হয়, তবে নূরুজ্জামানকে অতিরিক্ত সাত দিনের জন্য জেলায় রাখা হবে, এবং তদন্ত দলকে অতিরিক্ত সাক্ষী ও ডিএনএ বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি স্বচ্ছতা বজায় রেখে মামলাটি দ্রুত সমাধানের দিকে অগ্রসর হবে।