ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে টানা দ্বিতীয় দিন ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় সশস্ত্র পুলিশ গুলিবর্ষণ, গ্যাস ক্যানন ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের দমন করেছে; একই সঙ্গে কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও গৃহস্থালির সম্পত্তি পুড়েছে। ঘটনার তীব্রতা ও বিস্তৃতি দেশব্যাপী নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই বিশাল প্রতিবাদ আন্দোলনের পটভূমি হল সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত পেনশন সংস্কার আইন, যা বয়সসীমা বৃদ্ধি ও অবসরকালীন সুবিধা হ্রাসের ধারনা বহন করে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এই সংস্কারকে শ্রমিকের অধিকার হরণ হিসেবে গণ্য করে প্রতিবাদ শুরু করে। পূর্বে কয়েক সপ্তাহে রাস্তায় হাজারো কর্মী ও ছাত্র অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণ র্যালি অনুষ্ঠিত হলেও, সরকারী কঠোর পদক্ষেপের পর থেকে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক নেতারা সরকারকে “অবৈধ ও অমানবিক” বলে সমালোচনা করে এবং পেনশন বয়সের পরিবর্তন প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল মুখপাত্র সরকারকে “জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য” বলে উল্লেখ করে, পাশাপাশি সংস্কার আইন দ্রুত কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিভক্ত মতামত দেখা যায়; কিছু পরিবার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হ্রাসের ভয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
অধিকাংশ শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও গৃহস্থালির জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে পেনশন সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত বিবেচনা করে সমন্বিত সমাধান বের করা যায়।