কক্সবাজারের একটি প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ আজ বিকেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা দেশের পর্যটন শিল্পে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মরদেহগুলো সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকের ভারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে যে পটভূমি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা গেছে, রিসোর্টটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতা ছিল। জানা গেছে, রিসোর্টের রান্নাঘর অথবা বৈদ্যুতিক সংযোগে সৃষ্ট ত্রুটি থেকে আগুন শুরু হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে এবং রিসোর্টের ভেতরে পর্যাপ্ত আগুন নিভানোর সরঞ্জাম না থাকায় আগুন দ্রুত আয়ত্তা থেকে বেরিয়ে যায়। পর্যটকরা রাতের ঘুম থেকে জেগে উঠে পালানোর চেষ্টা চালালেও ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতায় তারা পালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। এই দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ হস্তান্তরের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা দাবি করেছেন, রিসোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি, যাতে করে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে পারত। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পর্যটন কর্মীদের পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি উঠেছে। তারা চাইছেন, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনজীবনে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়। পর্যটকরা এখন রিসোর্ট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং আগুন নিভানোর সরঞ্জামের মান যাচাই করবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের সব রিসোর্ট এবং হোটেলের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।