চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি গত সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের মধ্যে বিশাল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রন্থাগারটি শহরের প্রধান তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে আসছে এবং এর বন্ধ হওয়া তথ্যপ্রাপ্তি, গবেষণা ও পাঠাভ্যাসে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুতই এই বন্ধের অবসান চেয়ে দাবি জানিয়েছে যে, গ্রন্থাগারটি যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় খোলা হোক, যাতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। গ্রন্থাগারের বন্ধের ফলে গবেষণাপত্রের সময়সীমা মিস করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকল্প জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
গ্রন্থাগারটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তৎকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ২০২২ সালে প্রাচীন বই সংরক্ষণ ও ডিজিটালায়নের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ সংস্কার প্রকল্প শুরু হয়, যার জন্য সরকারী তহবিল ও আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তা গ্রহণ করা হয়। তবে, সংস্কারকালে কাঠামোগত ত্রুটি ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের কারণে নির্মাণ কাজের সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে গ্রন্থাগারটি বন্ধ করা হয়। এছাড়া, গ্রন্থাগারের পুরনো কাঠামোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ছিল, যা পুনর্নির্মাণের সময় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এই বন্ধের ফলে ১.৫ লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারীকে বিকল্প সুবিধা খুঁজতে বাধ্য হতে হয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের মেয়র আহমেদুল হক বলেছেন, "গ্রন্থাগারটি পুনরায় চালু করা আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার।" এছাড়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর রশিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, "যদি গ্রন্থাগারটি দ্রুত খোলা না হয়, তবে গবেষণার গতি ধীর হয়ে যাবে এবং ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক প্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।" স্থানীয় নাগরিক সংগঠন "শিক্ষা দিগন্ত" এর সভাপতি মমতা রায়ও দাবি করেন, "সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে গ্রন্থাগারটি নিরাপদে পুনরায় খুলে পাঠকদের সেবা দিতে পারে।" স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি ও বই বিক্রেতা গোষ্ঠীও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে, তারা গ্রন্থাগার পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে বই বিক্রয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সমন্বয় প্রস্তাব করেছে। এইসব মন্তব্যের পর, সামাজিক মাধ্যমে গ্রন্থাগার পুনরায় খোলার পক্ষে বিশাল সমর্থন দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম পৌরসভার সংস্কার বিভাগ ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করেছে। নির্মাণ সংস্থা সৌভাগ্য নির্মাণকে কাজের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব কাঠামোগত ত্রুটি সমাধান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ গ্রন্থাগারের ডিজিটাল তালিকা ও ইলেকট্রনিক গ্রন্থাগার সিস্টেম দ্রুত চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে শারীরিকভাবে প্রবেশ না করা পাঠকও অনলাইন মাধ্যমে সেবা পেতে পারে। অধিকন্তু, ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা গৃহীত হবে এবং প্রতি ছয় মাসে নিরাপত্তা পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রন্থাগারটি শীঘ্রই পুনরায় খোলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটি চট্টগ্রামের শিক্ষামূলক পরিবেশে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।