একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ফেসবুক ও মেসেঞ্জার প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি সহিংসতার হার অত্যন্ত উচ্চ। গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মোট নারীর ৪৬ শতাংশই বিভিন্ন রূপের সহিংসতার শিকার, আর সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত নীতির জরুরি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হিংসা, অপমানজনক মন্তব্য, যৌন হয়রানি ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। পূর্বে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতে দেখা গিয়েছিল যে, পুরুষ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম হিংসার শিকার, তবে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে নারীদের প্রতি লক্ষ্যবস্তু হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকের পাবলিক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারের ব্যক্তিগত চ্যাটে গোপনীয়তা রক্ষার অপ্রতুলতা, স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং সিস্টেমের ধীরগতি এবং অপরাধীদের গোপন পরিচয় বজায় রাখার সুবিধা এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পর নারী অধিকার সংস্থা, আইটি বিশেষজ্ঞ ও মানবিক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নারী অধিকার সমিতির প্রধান বলছেন, “অনলাইন সহিংসতা নারীর মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা তাত্ক্ষণিক আইনি হস্তক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধি দাবি করে।” আইটি নিরাপত্তা বিশারদরা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধে যথাযথ ফিল্টারিং ও রিয়েল‑টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; বহু নারী ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন।
সরকারি দিক থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্ল্যাটফর্ম প্রদানকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর নীতি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ফেসবুক ও মেসেঞ্জারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হিংসা-সংক্রান্ত বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলতে এবং শিকারের রিকভারি সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ বিভাগে সাইবার অপরাধ বিশেষ ইউনিট গঠন করে দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীর আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণার ফলাফল নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে নীতি সংশোধন ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।