মেহেরপুরের এক ছোট গ্রামেই শখের বশে আনারকলি চাষে সাফল্য অর্জনকারী চাষি মিঠু (মিথু) সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি প্রায় এক বছর আগে নিজের জমিতে আনারকলি রোপণ শুরু করেন, মূলত শখের জন্য এবং অতিরিক্ত আয়ের সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উচ্চ ফলন ও গুণগত মানের আনারকলি উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেন, যা কৃষি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিস্তৃত প্রশংসা পেয়েছে। তার এই উদ্যোগের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, শখকে উৎপাদনশীল ব্যবসায় রূপান্তরিত করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
মিঠুর আনারকলি চাষের পেছনে রয়েছে কয়েক বছরের কৃষি অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির অনুসরণ। তিনি পূর্বে ধান ও গমের চাষে দক্ষতা অর্জন করলেও, আনারকলি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ গ্রহণ করে সঠিক জাত নির্বাচন, সেচ ব্যবস্থা এবং সঠিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে তোলেন। এছাড়া, তিনি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ বজায় রাখেন, যা গ্রাহকদের মধ্যে স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ায়। তার পদ্ধতি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আনারকলি চাষের নতুন প্রবণতা গড়ে ওঠে।
মিঠুর সাফল্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিক থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় গ্রামসভা ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা তাকে প্রশংসা করে বলেন, “মিঠুর উদাহরণ দেখিয়ে আমরা গ্রামবাসীদের শখকে আয়োজিত উদ্যোগে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা দেখাতে পারি।” পাশাপাশি, গ্রাহকরা তার উৎপাদিত আনারকলির স্বাদ ও গুণগত মানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য অর্ডার বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মিঠু নিজে বলেন, “শখের জন্য শুরু করা এই কাজটি এখন আমার জীবনের প্রধান আয়ের উৎস, এবং আমি চাই আরও অনেক কৃষক এই মডেল অনুসরণ করুক।” তার এই বক্তব্য গ্রামীণ যুবকদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব জাগিয়ে তুলেছে।
অধিকাংশ কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সরকার মিঠুর উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেহেরপুর কৃষি অফিসে তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন ও বাজার সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি বৃহত্তর বাজারে পণ্য রপ্তানি করতে পারেন। এছাড়া, সরকারী কৃষি ঋণ স্কিমের আওতায় তাকে অতিরিক্ত মূলধন সরবরাহের জন্য দ্রুত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, মিঠু এবং তার মতো শখের চাষী কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত সমর্থন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা টেকসই উৎপাদন ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এভাবে, শখকে পেশায় রূপান্তরিত করার মডেলটি দেশের কৃষি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।