ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেম ও টেল‑আভিভের প্রধান সড়কে আজ বিকেলে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নাগরিক একত্রিত হয়ে একাধিক স্লোগান শোনালেন। ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’ ইত্যাদি দাবি সম্বলিত স্লোগানগুলো ভিড়ের মধ্যে গুঞ্জরিত হয়ে শাসনব্যবস্থার তৎক্ষণাৎ পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। এই প্রতিবাদটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত হয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ইসরায়েলের পার্লামেন্টে কোনো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ দল গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জোট গঠনের দীর্ঘায়িত আলোচনায় সরকার গঠনের অগ্রগতি ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ফলে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক শূন্যতা ও নীতি অগ্রাধিকারের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, ইহুদি ও আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিক উত্তেজনা, বসতি স্থাপন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের ফলে সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ সকল কারণই আজকের বৃহৎ প্রতিবাদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তারা ইসরায়েল সরকারের বর্তমান নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিছু নেতা বলছেন, ‘একই সময়ে দুই জাতির সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তবে সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি’। আরব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘একটি সমন্বিত সরকারই জাতিগত বিভাজন দূর করে স্থায়ী শান্তি গড়ে তুলতে পারে’। অন্যদিকে, সরকারী মুখপাত্ররা প্রতিবাদকে ‘অবৈধ সমাবেশ’ বলে সমালোচনা করে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র মতামত দেখা যায়; কেউ সমন্বিত সরকারকে সমর্থন করেন, আবার কেউ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা চান।
অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও, আজকের প্রতিবাদে কোনো বড় ধরণের হিংসা ঘটেনি; তবে পুলিশ কিছু অংশে গুলিবিদ্ধের হুমকি ও অশান্তি রোধে গ্যাস ও গুলিবিদ্ধ ব্যবহার করেছে। সরকারী দফতর থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য দ্রুত একটি জোট গঠন করা হবে এবং সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতিবাদ পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সংলাপ ও নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসন্ধান করা হবে।