প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান জাপান সফরের পর রাষ্ট্রপতি শ্রী মুহাম্মদ আবদুল হামিদকে জানালেন যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সফরে মোট পাঁচটি মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বললেন, এই চুক্তিগুলি কেবল অর্থনৈতিক মুনাফা নয়, বরং প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তি ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি পত্রের মাধ্যমে শুরু হয় এবং এরপর থেকে দুই দেশ বহু ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। পূর্বে জাপান বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত দশকে জাপান থেকে সরাসরি বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আজ দেশের মোট FDI-র প্রায় ১০% অংশ গঠন করে। এই সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি পূর্বের চুক্তিগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে জাপানীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ সফরের ফলাফলকে “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা” বলে প্রশংসা করেন এবং জাপানীয় অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীও জাপান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে, চুক্তিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করার ঘোষণা দেন। ব্যবসা সংস্থাগুলি এই চুক্তিগুলিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে, বিশেষত জাপানীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন খাতের আধুনিকীকরণে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। সাধারণ জনগণও এই সংবাদে আশাবাদী, কারণ নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সরকার ইতিমধ্যে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত কাঠামো গঠন শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কর্মদল গঠন করে, চুক্তির অধীনে নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, তহবিল বরাদ্দ ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। পাশাপাশি, জাপানীয় প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় কর্মশক্তি আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বাড়িয়ে, জাপানকে বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয় নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।