বিমানবাহিনীর নজরদারি দল ২২ দিনের দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত অভিযানে নদী ও উপকূলবর্তী জেলাগুলোর মা ইলিশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গৌরবপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারের নির্দিষ্ট জোনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণ করা হয়, ফলে অবৈধ জালবন্দি, অতিরিক্ত শিকারের প্রচেষ্টা তৎক্ষণাৎ সনাক্ত করা সম্ভব হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সমন্বিত অভিযান দেশের প্রাচীন মাছ, মা ইলিশের জনসংখ্যা রক্ষা ও মৎস্য শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
মা ইলিশের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিরিক্ত শিকারের ফলে নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে জোয়ার‑ভাটার পার্থক্য ব্যবহার করে জালবন্দি স্থাপন, রাতের বেলা গোপন শিকারের প্রচলন ও অপ্রতিবন্ধক জাল ব্যবহার করে মৎস্যজীবীরা প্রজাতির প্রজনন মৌসুমে বড় ক্ষতি করে আসছে। ২০১৯ সালে সরকার প্রথমবারের মতো মা ইলিশ রক্ষার জন্য ১০ দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্বে কয়েকটি জেলা পর্যায়ে সীমিত পর্যবেক্ষণ চালু করা হলেও, সমন্বিত বিমানবাহিনীর নজরদারি ছাড়া কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন ছিল।
বিমানবাহিনীর প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল রশিদুল হক অভিযানের সফলতা সম্পর্কে বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ করা আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রদান করে; অবৈধ কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে জানানো আমাদের দায়িত্ব।” মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক, মো. আবদুল করিম উল্লেখ করেন, “এই সমন্বিত অভিযান আমাদের মৎস্য নীতি বাস্তবায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে; ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বয়কে নিয়মিত করা হবে।” স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি, শ্রীমতি রোশনি বেগম জানান, “বিমানবাহিনীর উপস্থিতি আমাদের কাজের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে, তবে সঠিক সময়ে বৈধ শিকারের অনুমতি পেলে আমাদের জীবিকা রক্ষা পাবে।” পরিবেশ সংস্থার বিশ্লেষক, ড. সুমন চৌধুরী যোগ করেন, “মা ইলিশের জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার হলে সমগ্র ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে; তাই দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।”
অভিযান সমাপ্তির পর সরকার তৎক্ষণাৎ একটি সমন্বিত তদারকি ব্যবস্থার খসড়া প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে বিমানবাহিনীর নিয়মিত রাউন্ড‑সার্কিট, মৎস্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ভিত্তিক রিয়েল‑টাইম ডেটা শেয়ারিং এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে অতিরিক্ত শিকারের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শাস্তি বৃদ্ধি করা হবে। সরকার পরিকল্পনা করেছে যে, প্রতি ত্রৈমাসিকে একবার বিমানবাহিনীর নজরদারি চালু থাকবে এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বৈধ শিকারের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মা ইলিশের জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার এবং দেশের মৎস্য শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করা হবে।