ঢাকার কটিয়াদী এলাকায় গতকাল বিকেলে এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান, বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে কটিয়াদীর একটি জনবহুল এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় একদল হামলাকারী তরুণটি ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ঘটনায় তরুণটি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আহত তরুণটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি গভীর ছুরিকার চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার জীবনে এখনো বিপদ থাকলেও অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার পেছনে পারিবারিক বিরোধ ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে, যেখানে হামলাকারীরা আগে থেকেই শিকারকে লক্ষ্য করে অপেক্ষা করছিল। কটিয়াদী থানার সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার সময় হামলাকারীরা ছিলেন বেশ কয়েকজন এবং তারা ছিলেন সজ্জিত অবস্থায়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে ছোটখাটু ঝগড়া-বিবাদ বাড়ছে, যা কখনো কখনো এ ধরনের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান স্থানীয় সমাজে সম্মানিত একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, তাই তার ছেলের ওপর এই হামলা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পরপরই আহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, তার ছেলের ওপর এই নির্মম হামলার দায়ী হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি চান এবং পুলিশের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় নেতারাও এই ঘটনাকে নিন্দা করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণটির বন্ধুরা ও আত্মীয়স্বজনরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তারা দাবি করেছেন, হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং তাদের পরিচয় পুলিশের কাছে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনজীবনে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে যারা রাতে বা বিকেলে বাইরে থাকেন, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফেরালেও, তারা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।