ঢাকা শহরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে সরকারী সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মেলাটি শহরের উত্তর‑দক্ষিণ সড়ক সংযোগের নিকটবর্তী এক বৃহৎ প্রদর্শনী মঞ্চে আয়োজন করা হবে, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি শিল্পপতি, রপ্তানি‑আমদানি সংস্থা এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো একত্রিত হবে। মেলার প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যসম্ভারকে পরিচিত করা এবং বাণিজ্যিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করা। মেলার উদ্বোধনী সমারোহে রাষ্ট্রপতি, অর্থমন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৫ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজন করা হয়ে আসছে, এবং পূর্বে দু’বারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মেলার মূল থিম প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়; এ বছর ‘টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাণিজ্য’কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা এবং পণ্য প্রদর্শনী পরিকল্পনা করা হয়েছে। মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা পৌরসভা যৌথভাবে মেলার অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করছে। পূর্ববর্তী মেলায় রপ্তানি আয় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োগের সফলতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জহিরুল হক মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ‘এই মেলা দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। অংশগ্রহণকারী শিল্পপতিদের জন্য নতুন বাজার উন্মোচনের সুযোগ হবে।’ মেলার অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বেডেক) এর প্রধান শ্রীমতি রেহানা বেগম যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের উচ্চ মানের পণ্যসম্ভারকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করতে উন্মুখ। মেলার মাধ্যমে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বেশি।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মেলাটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেলার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ঢাকা পুলিশ বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মেলার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত বাস ও শাটল সেবা চালু করা হবে। সরকার মেলার সময়কালীন করমুক্ত এলাকা নির্ধারণ করে বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে মেলাটিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।