মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় উদ্বৃত্ত চিত্রা হরিণ বিক্রির নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি হরিণের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এই নীতিমালার আওতায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে, আগ্রহী ক্রেতারা কমপক্ষে এক জোড়া হরিণ কিনতে বাধ্য থাকবেন। এই সিদ্ধান্তটি প্রাণীসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও চিড়িয়াখানার আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই বিক্রির মাধ্যমে চিড়িয়াখানার আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্বৃত্ত প্রাণীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকরী পথ খুঁজে পাওয়া গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা। মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় আবাসন ও খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছিল, যা চিড়িয়াখানার সামগ্রিক পরিচালনায় চাপ সৃষ্টি করছিল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এবং প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ উদ্বৃত্ত প্রাণীদের বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিত্রা হরিণ, যা বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী, তার সংরক্ষণ ও প্রজনন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিড়িয়াখানার সীমিত জায়গায় সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায়। প্রাণীসম্পদ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উদ্বৃত্ত প্রাণীদের বিক্রি করে অন্য চিড়িয়াখানা বা প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো প্রাণীসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কিছু প্রাণী অধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই বিক্রি প্রাণীদের কল্যাণের চেয়ে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে কিনা। জনসাধারণের মধ্যেও এই দর নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে কিছু মানুষ মনে করছেন ৫০ হাজার টাকা একটি স্বাভাবিক মূল্য, অন্যদিকে কিছু মানুষ এটিকে বেশি মনে করছেন। তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই আয় সরাসরি চিড়িয়াখানার উন্নয়ন ও প্রাণীদের যত্নে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমোদনপত্র এবং প্রাণী পরিচালনার যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে ক্রেতারা আবেদন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিক্রিত হরিণগুলোর স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও পরিচর্যা নিয়ে কঠোর নজর রাখা হবে। ভবিষ্যতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে, যাতে প্রাণী সংরক্ষণ ও আর্থিক স্বচ্ছতা উভয়ই নিশ্চিত করা যায়। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য হতে পারে।