দোহার জেলায় গত মাসে বন্যা-প্রলয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচজন কিশোরী মেয়ে, যাঁরা দুজন পিতামাতাকে হারিয়েছে, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমানের সরাসরি সহায়তা-উপহার প্রদান করা হয়েছে। উপহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নগদ অর্থ, শিক্ষাসামগ্রী, স্বাস্থ্যবীমা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য একশো হাজার টাকার স্কলারশিপ। এই পদক্ষেপটি দেশের সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্বের তরফ থেকে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সমর্থন করার ইচ্ছা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে এবং জাতীয় সংহতি ও সমবেদনার প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
দোহার জেলায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অপ্রত্যাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে বহু গ্রাম জলে ডুবে যায় এবং প্রায় দুইশো পরিবার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বিশেষ করে একক পিতামাতার পরিবারগুলোতে আর্থিক সংকট তীব্রতর হয়; পাঁচ কিশোরী মেয়ের পরিবারে মা‑বাবা দুজনই বন্যা‑প্রলয়ে প্রাণ হারিয়ে গেছেন। পূর্বে সরকার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে অস্থায়ী আশ্রয় ও মৌলিক খাদ্যসামগ্রীর সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা কঠিন ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্র জানান, “দোহার বন্যা‑প্রলয়ের শিকারদের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতা অটুট থাকবে; এই পাঁচ কিশোরী মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।” স্থানীয় জেলা প্রশাসকও উল্লেখ করেন, “এই সহায়তা কেবল আর্থিক নয়, মানসিক সমর্থনও প্রদান করে, যাতে মেয়েরা শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে এবং স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে।” স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে “দরিদ্র ও বঞ্চিত গোষ্ঠীর প্রতি সরকারের সমন্বিত মনোভাবের প্রমাণ” বলে প্রশংসা করেন। সমাজের সাধারণ মানুষও সামাজিক মাধ্যমে এই সহায়তাকে স্বাগত জানিয়ে, আরও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সমান সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার এখন থেকে দোহার জেলায় পুনর্বাসন পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্থিক অবস্থা, শিক্ষার প্রয়োজন এবং স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করবে। তদুপরি, ভবিষ্যতে অনুরূপ বন্যা‑প্রলয়ের ঝুঁকি কমাতে নদীর তীরের সুরক্ষা কাজ, বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার এই ধরণের সহায়তা প্রোগ্রামকে ধারাবিকভাবে চালিয়ে যাবে এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকল শিশু ও কিশোরীর জন্য সমন্বিত সুরক্ষা নেট গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।