গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থা প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েল লবির প্রতি জনমত ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জরিপে ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েল‑সংক্রান্ত নীতি গঠনে লবির প্রভাবকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন, আর ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা লবির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। এই ফলাফলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লবির প্রভাব ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। জরিপের প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ও বিশ্লেষকরা এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
ইসরায়েল লবির উত্থান মূলত ১৯৬০‑এর দশকে শুরু হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি গঠনে ইসরায়েলকে সমর্থন করার জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে লবির প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে ইসরায়েল‑অনুকূল আইন পাস করানো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা অঞ্চলে সংঘটিত সংঘর্ষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং লবির আর্থিক স্বার্থের অস্বচ্ছতা জনমতকে পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন লবির গ্রহণযোগ্যতাকে দুর্বল করেছে।
লবির প্রধান প্রতিনিধিরা জরিপের ফলাফলকে “অস্থায়ী অবনতি” বলে খণ্ডন করে, তারা যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও কূটনৈতিক স্বার্থের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্লামেন্টারদের মধ্যে লবির স্বার্থকে “অধিকাংশের স্বার্থের বিপরীত” বলে সমালোচনা বাড়ছে। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও লবির আর্থিক স্বচ্ছতা ও নীতি প্রভাবের ওপর কঠোর তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এই বিতর্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ ও সমাবেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনজীবনে লবির প্রভাবকে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি এবং সেনেটের সংশ্লিষ্ট কমিটি লবির আর্থিক লেনদেন ও নীতি প্রভাবের ওপর বিশেষ তদন্তের আদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, ফেডারেল নির্বাচন কমিশন লবির দান ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন নিয়মাবলী প্রণয়ন করছে। ভবিষ্যতে লবির স্বীকৃতি ও কার্যক্রমের ওপর কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি গঠনে নতুন ভারসাম্য রূপে প্রকাশ পাবে। এই পদক্ষেপগুলো লবির স্বীকৃতি পুনরুদ্ধার ও জনমত পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।