গত সপ্তাহে ঢাকা মহানগর পৌরসভা দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আবাসন প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করেছে। ১,২০০টি নতুন বাসগৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪,০০০ এরও বেশি দরিদ্র পরিবারকে স্থায়ী বাসস্থান সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গৃহহীনতা দূর করে জীবনমান উন্নয়ন করা। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৩০০ বর্গফুটের একক পরিবারিক ঘর, স্যানিটারি সুবিধা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশে গৃহহীনতা ও অনিয়মিত আবাসনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গৃহ নির্মাণের প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহের অভাবের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার গৃহনির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
প্রকল্পের উদ্বোধনে মেয়র শ্রীমতী রুবাইয়া আহমেদ বলেন, ‘গৃহ হল মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেক পরিবারকে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান প্রদান করব।’ একই সঙ্গে, গৃহহীন পরিবারগুলোর প্রতিনিধি শ্রীমতী ফারহানা সুলতানও আশাবাদ প্রকাশ করেন, ‘আমাদের সন্তানরা এখন নিরাপদে ঘুমাতে পারবে এবং শিক্ষা গ্রহণে মনোযোগ দিতে পারবে।’ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা উল্লেখ করেন, ‘এই উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একত্রে কাজ করছে, যা আমাদের সমন্বিত উন্নয়নের প্রতিফলন।’
পৌরসভা বর্তমানে নির্মাণ কাজের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ৫০০টি ঘর সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি, গৃহ নির্মাণের পরবর্তী পর্যায়ে বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করে দেশের সকল দরিদ্র পরিবারকে গৃহবিহীনতা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।