ঢাকা শহরের জাতীয় কনভেনশন সেন্টারে গত সন্ধ্যায় 'রূপে তোমায় ভোলাব না, ভালোবাসায় ভোলাব...' শিরোনামের নতুন বাংলা গীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সঙ্গীতপ্রেমী, শিল্প সমালোচক ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে এই গীতের সুর, কথার গভীরতা ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গীতের সুরকার, গায়ক ও গীতিকার উপস্থিত ছিলেন এবং সরাসরি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে গীতের মূল ভাব প্রকাশ পায়। এই গীতটি প্রেমের বিভিন্ন রূপকে সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রকাশ করে, যা বর্তমান সমাজে মানবিক সম্পর্কের পুনর্নির্মাণে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
গীতটির সৃষ্টিকর্তা হলেন প্রখ্যাত সুরকার রবীন্দ্র সিংহ, যিনি পূর্বে 'মধুর সুর' ও 'প্রেমের স্রোত' মত বহু জনপ্রিয় গীত রচনা করেছেন। গীতিকার হিসেবে কাজ করছেন তরুণ কবি মধু রায়, যাঁর কবিতায় আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশ্রণ দেখা যায়। গায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুপরিচিত গায়িকা শ্রীলতা দাস, যাঁর স্বরলহরী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাদৃত। গীতের রচনায় বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক রোমান্সের ছোঁয়া রয়েছে, যা আধুনিক সুরের সঙ্গে মিশে একটি অনন্য সুরময় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এই প্রকল্পটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের 'সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ' উদ্যোগের অংশ হিসেবে তহবিল পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সিংহ গীতের সৃষ্টিকালীন প্রেরণা সম্পর্কে বলেন, 'প্রতিটি প্রেমের মুহূর্তই একেকটি রঙিন ছবি, যা সুরের মাধ্যমে চিত্রিত করা যায়'। শ্রীলতা দাস গীতের প্রথম লাইন গাইতে গিয়ে মন্তব্য করেন, 'এই গীতটি হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিকে স্পর্শ করে, যা শোনার পর মানুষ নিজেকে নতুনভাবে উপলব্ধি করে'। দর্শক ও সমালোচকরা গীতের সুরের মাধুর্য, কথার সূক্ষ্মতা ও গায়িকার স্বরকে প্রশংসা করে, এবং সামাজিক মিডিয়ায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গীতটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যা দেশের সঙ্গীত বাজারে নতুন প্রবণতা তৈরি করবে বলে ধারণা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গীতের প্রচার ও বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারী রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলে গীতের নিয়মিত প্রচার, পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে স্ট্রিমিং নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া গীতের থিমে ভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তরুণ শিল্পী ও সঙ্গীতপ্রেমীরা গীতের সৃষ্টিকৌশল শিখতে পারে। ভবিষ্যতে গীতটির আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির বিশ্বমঞ্চে অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। এভাবে গীতটি শুধু শিল্পের ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।