আজ রোববার দুপুরে ঢাকা শহরের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক উপস্থিত থেকে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ফলাফল ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, গত সপ্তাহে গৃহীত বিশেষ অনুমোদন প্রাপ্ত দলটি গৃহনগরী এলাকায় গোপনীয়ভাবে প্রবেশ করে একাধিক মাদক সরবরাহকারী গোষ্ঠীর গুদাম ধ্বংস করেছে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ পদার্থ ও অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই অভিযানকে দেশের মাদকমুক্তি লক্ষ্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পুলিশের তদন্তের নির্দেশনা জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।
মাদক পাচার সংক্রান্ত সমস্যার পটভূমি দেশব্যাপী দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে এসেছে। পূর্বে গৃহীত নীতিমালা ও আইনগত কাঠামো সত্ত্বেও মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভিন্ন‑ভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে, বিশেষত শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। অতএব, নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অস্ত্র ব্যবহার করে সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। সরকারগতভাবে গৃহীত ‘মাদকবিরোধী তীব্র অভিযান’ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ দল গঠন করা হয় এবং তাদেরকে সশস্ত্রভাবে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম প্রশ্নের জবাবে বলেন, “অভিযানের সময় প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” প্রতিমন্ত্রী ইশরাকও জোর দিয়ে বলেন, “মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্য আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি, তাই আমরা কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেব।” সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে যে, কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হবে।
অধিকতর তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএমপি ও ন্যাশনাল ড্রাগস কন্ট্রোল এজেন্সি একত্রে প্রমাণ সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং জব্দকৃত সামগ্রী বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে তোলা, সীমান্তে নজরদারি শক্তিশালী করা এবং মাদক উৎপাদনকারী গোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি ভেঙে ফেলার জন্য বিশেষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে আরও সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে মাদক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন প্রোগ্রাম ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মাদক সমস্যার মূল কারণ মোকাবেলা করবে।