অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের যৌথ সিদ্ধান্তে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং রূপালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, মো. মজিবর রহমান এবং কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামকে পদ থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলির শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সুপারিশের ভিত্তি হল পরিচালকদের কর্মক্ষমতা, নৈতিকতা এবং আর্থিক নিয়মাবলীর লঙ্ঘনের সম্ভাবনা। এছাড়া, ব্যাংকিং তত্ত্বাবধানের স্বতন্ত্র সংস্থা এই পদক্ষেপকে নিয়ম মেনে চলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলির শেয়ার মূল্যে সাময়িক হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে শাসনব্যবস্থার উন্নতি প্রত্যাশিত।
পূর্বে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি বিতর্কের মুখে পড়ে। প্রথমে এই তিনটি ব্যাংকের পরিচালকদের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অভ্যন্তরীণ কমিটি ও শেয়ারহোল্ডার সভার অনুমোদন প্রয়োজনীয় ছিল, তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মানদণ্ডে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, শওকত আলী খানের পূর্ববর্তী পদে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং মো. মজিবর রহমানের রাজনৈতিক সংযোগের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা গড়ে ওঠে। রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ নীতিতে অনিয়মের সন্দেহ উত্থাপিত হয়। এসব পটভূমি বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করে থাকে।
সুপারিশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক গোষ্ঠী থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়। সোনালী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার সমিতি প্রকাশ্যে বলেছে যে, তারা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করে এবং বর্তমান পদত্যাগকে স্বাগত জানায়। জনতা ব্যাংকের গ্রাহক পরিষেবা বিভাগে কর্মচারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, পরিচালকের পরিবর্তন সেবার মানে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তারা ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সমর্থন জানায়। রূপালী ব্যাংকের কর্মী সমিতি উল্লেখ করেছে যে, নতুন ব্যবস্থাপনা গঠন হলে ব্যাংকের ঋণ পুনর্গঠন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মন্তব্য করেন যে, এই পদক্ষেপটি সরকারের আর্থিক শাসনকে শক্তিশালী করার সংকেত এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অধিকর্তা এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি দ্রুত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করে শেয়ারহোল্ডার সভার অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব দেবে। পাশাপাশি, ব্যাংকগুলিকে স্বল্পমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য কঠোর নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপের নীতি অনুসরণ করবে। এই পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও জনসাধারণের আস্থার পুনর্নির্মাণে সহায়তা করবে।