সর্বশেষ সংবাদ, সবার আগে
শিরোনাম
গায়ে পা লাগলে সালামের প্রচলন: শিষ্টাচারের সীমা ও ধর্মীয় বিধানের বিশ্লেষণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭২ জনের সাজা, হানিফসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্যময় প্রেক্ষাপট নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গী ইউটিজে বিরোধী জোটে যেতে আগ্রহী সরকার চাইলেই কি টাকা ছাপাতে পারে সার্বিয়াকে শিক্ষার্থীরা যেভাবে পুনরুদ্ধার করল ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি: গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ দুই দশকের অপেক্ষা শেষ, পুলিশে যোগ দেবেন ২৪৬ জন প্রার্থী পিরোজপুরে মানিক পশারীর সঙ্গে কী ঘটেছিল জানতে কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয় চড়া সুদে ঋণ, অন্যের সহায়তা, জমি বিক্রির টাকায় চিকিৎসা ইন্ডিয়া জোটের রামলীলা ময়দানের সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানাল সিজেপি শখের বশে আনারকলি চাষে সফল মেহেরপুরের চাষি মিঠু সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ শেকৃবির শিক্ষার্থীদের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ১১ দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর পর্যটন সীমা বাড়ালেও সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
ad728

গায়ে পা লাগলে সালামের প্রচলন: শিষ্টাচারের সীমা ও ধর্মীয় বিধানের বিশ্লেষণ

প্রিন্ট
গায়ে পা লাগলে সালামের প্রচলন: শিষ্টাচারের সীমা ও ধর্মীয় বিধানের বিশ্লেষণ
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে গায়ে পা লাগলে বা কাছাকাছি হলে একে অপরের সাথে সালাম করার প্রথা অত্যন্ত প্রচলিত। লোকসমাজে এটিকে শিষ্টাচারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, এটি একজন মানুষের সতর্কতা, আন্তরিকতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার প্রকাশ। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই প্রচলিত রীতিটি কি আসলেই ইসলামের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের অংশ, নাকি এটি কেবলমাত্র স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির একটি অংশ, তা নিয়ে উলামায়ে কেরাম ও ধর্মতত্ত্ববিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এই বিষয়টি এখন শুধুমাত্র সামাজিক নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিতে পা লাগলে সালাম করার রীতিটি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। পূর্বপুরুষরা এটি এক ধরনের সামাজিক নিয়ম হিসেবে মানতেন, যাতে দুই পাশাপাশি হাঁটতে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো অসুবিধা বা অসম্মানজনক পরিস্থিতি না তৈরি হয়। এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্যের ব্যক্তিগত সীমানা সম্মান করা এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও মসৃণ করা। তবে ইসলামি শরিয়তে সালামের বিধানগুলো খুবই সুনির্দিষ্ট। সালাম করার একটি নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণত মুসলিমদের মধ্যে সালাম করার বিধান রয়েছে, কিন্তু গায়ে পা লাগলে বা শারীরিক সংস্পর্শের ক্ষেত্রে সালাম করার কোনো সরাসরি শরঈয়ি বিধান পাওয়া যায় না। বরং, পাশাপাশি হাঁটার সময় একে অপরের পাশে সরে দাঁড়ানো বা পিছিয়ে যাওয়া শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত, যা অন্যের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য করা হয়।

এই বিষয়ে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন। কিছু উলামা মনে করেন, এটি কেবলমাত্র একটি সামাজিক রীতি বা আদব, যা ইসলামের বিরোধী নয়, তবে এটি কোনো ফরজ বা ওয়াজিব নয়। অন্যদিকে, কিছু আলেম সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয় বিধানকে সামাজিক রীতির সাথে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়। তারা বলেন, সালাম একটি ইবাদতের অংশ, তাই এটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা উচিত। জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, কারণ অনেকেই মনে করেন এটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক শিষ্টাচারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বোঝা জরুরি। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রথাটি এতটাই গভীরভাবে বসে গেছে যে, একে ধর্মীয় বিধানের সাথে গুলিয়ে ফেলা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিষয়ে সরাসরি কোনো নতুন বিধান বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারীরা সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধর্মীয় নির্দেশনা প্রদান করা হলে জনসাধারণের মধ্যে বিরাজমান বিভ্রান্তি দূর হতে পারে। সামাজিক শিষ্টাচার ও ধর্মীয় বিধানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। মানুষেরা যেন ধর্মীয় আদর্শকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে এবং সামাজিক রীতিনীতিকে আলাদাভাবে গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রক্রিয়াটি দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে আরও সুসংগঠিত ও সচেতন করে তুলতে সাহায্য করবে।

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।
ad728

এ জাতীয় আরও খবর