দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শিল্পগোষ্ঠী স্যামসাং, হুন্দাই ও হানওয়া বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে ঢাকা ও সিউল শহরে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনটি সংস্থা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বৃহৎ পরিসরের প্রকল্পের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। স্যামসাং স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, হুন্দাই গাড়ি ও ভারী যন্ত্রপাতি সমাবেশ, হানওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রেলওয়ে প্রকল্পে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই ঘোষণাগুলি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নীতি সংস্কারগুলো বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে আকর্ষণ করার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। গত পাঁচ বছরে জিডিপি বার্ষিক গড়ে ছয় শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকার বাণিজ্যিক কর হ্রাস, জমি অধিগ্রহণে স্বচ্ছতা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক শর্ত তৈরি করেছে। পূর্বে স্যামসাং ও হুন্দাই ইতিমধ্যে গার্মেন্টস ও অটোমোবাইল সেক্টরে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে, যা বর্তমান নতুন পরিকল্পনার পটভূমি গঠন করেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশে শ্রমিকের দক্ষতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে বিবেচনা করে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। স্যামসাংয়ের বাংলাদেশ ম্যানেজার বলেছেন, “স্থানীয় বাজারের চাহিদা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা উভয়ই আমাদের জন্য আকর্ষণীয়”। হুন্দাইয়ের সিইও যোগ করেছেন, “উন্নত অবকাঠামো এবং সরকারী সমর্থন আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে সহায়ক হবে”। হানওয়ার প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি দিকনির্দেশনা আমাদের প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”। এই মন্তব্যগুলো শিল্পক্ষেত্রের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
সরকার ইতিমধ্যে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা, কর ছাড় এবং দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের টাস্ক ফোর্স নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ত্বরান্বিত করার জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি, শ্রম মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মশক্তি গঠনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভবিষ্যতে স্যামসাং, হুন্দাই ও হানওয়ার পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের উৎপাদন কাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।