রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর প্রধান প্রশাসনিক ভবনে গত রাত ২২:৪৫ টায় একটি বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ৭২ জন নাগরিক নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছেন। এই আক্রমণটি তৎক্ষণাৎ দেশের নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কারণ আরামকো দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত এবং রিয়াদের কেন্দ্রীয় ব্যবসা‑বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, হামলাকারী বিমানটি হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তা সরাসরি আরামকোর সিলিং‑সিস্টেমে আঘাত হানে, ফলে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা ও মৃতদেহ পুনরুদ্ধার কাজ চালায়, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎকালীন সতর্কতা জোরদার করা হয়।
এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্রতর যুদ্ধের ধারাবাহিকতা। হুথি গোষ্ঠী, যা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, দীর্ঘদিন থেকে সৌদি তেল শিল্পের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে, কারণ তেল রপ্তানি দেশের রাজস্বের প্রধান উৎস। গত বছরই রিয়াদের বিভিন্ন তেল সংস্থার ওপর একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ঘটেছে, তবে আরামকোর প্রধান ভবনে এই মাত্রার আক্রমণ প্রথমবারের মতো দেখা দিয়েছে। তেল শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, হুথি গোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের সম্ভাবনা এই আক্রমণকে সম্ভব করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
আক্রমণের পরপরই সৌদি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ও আরামকোর মুখপাত্র একাধিক বিবৃতি প্রকাশ করেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ আল‑সুলাইমান জানান, “এই ধ্বংসাত্মক হামলা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি এবং আমরা শিকারের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানাই।” আরামকোর সিইও ফাহাদ আল‑হাসানও জানিয়েছেন, “আমরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলি পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।” পরিবারগুলির শোক ও রাষ্ট্রীয় সমবেত শোকের মঞ্চে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও দুঃখের ছায়া দেখা যায়, এবং সামাজিক মাধ্যমে সহানুভূতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
সৌদি সরকার ঘটনাটির পরপরই একটি বিস্তৃত তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে হুথি গোষ্ঠীর আক্রমণ রোধে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের আধুনিকীকরণ এবং সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি গোষ্ঠীর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, তেল শিল্পের নিরাপত্তা ও দেশের অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যাতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা আর না ঘটে।