প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান ৭ নভেম্বর জাতীয় টেলিভিশন সম্প্রচারে ট্যারেক রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, যে দেশের ভেতরে‑বাইরে যে কোনো ষড়যন্ত্রের জবাব তিনি দেবেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরকারকে লক্ষ্য করে অবৈধ তথ্য প্রচার ও গুজবের ঝড় দেখা গেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে হুমকি দেয়। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, সরকারকে গঠনমূলকভাবে রক্ষা করার সংকল্প প্রকাশ এবং জনগণের মধ্যে অবিশ্বাসের ফাঁক কমাতে দৃঢ় পদক্ষেপের ইঙ্গিত।
গত কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুবার সরকারকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক নীতি এবং বিদেশি সাহায্য প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত গুজবগুলো সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমতকে বিভ্রান্ত করে এবং বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। পূর্বে একই রকম অভিযোগে তথ্য কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে কিছু গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে, গুজবের পুনরাবৃত্তি এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্ভব সরকারকে ক্রমাগত সতর্ক রাখে, ফলে এই ধরনের ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়।
বিপক্ষের নেতারা, বিশেষ করে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠন, প্রধানমন্ত্রীকে সতর্কতা হিসেবে গ্রহণ করে, দাবি করেন যে গুজবের মোকাবিলায় স্বচ্ছতা ও তথ্যের মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করা উচিত। কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, সরকার যদি অতিরিক্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেন, অন্যদিকে কিছু মানুষ অতিরিক্ত দমনমূলক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মিডিয়া সংস্থা গুলোও এই বিষয়টি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করে, গুজবের উৎস ও প্রভাব নির্ণয়ে তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সরকার তৎক্ষণাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়, যাতে গুজব সনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র গঠন করা হয়। পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গুজব প্রচারকারী ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াতে পাবলিক ডেটা পোর্টাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে এবং নাগরিকদের সরাসরি প্রশ্নোত্তর সেশনের মাধ্যমে সন্দেহ দূর করার ব্যবস্থা চালু করবে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হল, গুজবের প্রভাব হ্রাস করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা।