বাংলাদেশ ফুটবল সমিতি (বিএফএ) গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দেশের ফিনিশিং সমস্যার সমাধানের জন্য তারা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মোরছালিনকে আবার জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে গোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, ফলে দলীয় জয়লাভে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। মোরছালিন, যিনি পূর্বে ২০১৯ সালে জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তিনটি গোলের মাধ্যমে দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার অভাব এখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সমিতি এই পদক্ষেপকে দেশের গোলের সমস্যাকে কাটিয়ে উঠার একটি জরুরি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
মোরছালিনের প্রত্যাবর্তনের পেছনে থাকা পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি দলটি আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে গোলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় র্যাংকিংয়ে পতন ঘটেছে। ২০২২ সালে সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া গেমসের প্রস্তুতি পর্যায়ে মোরছালিনের আঘাতজনিত অনুপস্থিতি দলকে শূন্যে নামিয়ে দেয়। তদুপরি, দেশের ফুটবল একাডেমি থেকে উৎপন্ন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে ফিনিশিং দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমিতি অতীতের সফলতা এবং অভিজ্ঞতার পুনর্ব্যবহারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
বিএফএর সভাপতি মি. রশিদুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোর দিয়ে বলেন, “মোরছালিনের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি আমাদের আক্রমণাত্মক শক্তিকে পুনর্জীবিত করবে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি মডেল হবে।” জাতীয় দলের প্রধান কোচ শ্রীমতি নূরজাহানও যোগ করেন, “প্রশিক্ষণ শিবিরে মোরছালিনের উপস্থিতি তরুণদের গোলের সঠিক অবস্থান ও শুটিং টেকনিক শিখতে সহায়তা করবে।” ভক্তদের মধ্যে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক মন্তব্য দেখা গেছে, যেখানে অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে মোরছালিনের ফিরে আসা দলকে পুনরায় জয়লাভের পথে নিয়ে যাবে। তবে কিছু বিশ্লেষক মোরছালিনের বর্তমান ফিটনেস এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএফএ মোরছালিনকে আগামী মাসের মধ্যে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এই সেশনে শুটিং ড্রিল, পজিশনিং ব্যায়াম এবং মানসিক প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সমিতি দেশের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয় করে তরুণ ফরোয়ার্ডদের জন্য ফিনিশিং কর্মশালা চালু করবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে গোলের সমস্যার মূল সমাধান সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আসন্ন সাউথ এশিয়া গেমস এবং এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে মোরছালিনের ভূমিকা কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সমিতি ইতিমধ্যে তার পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করেছে।