ঢাকা শহরের নাখালপাড়া এলাকায় গৃহবধূ রেহানা আহমেদ (বয়স ৩২) এর মৃতদেহ সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ট্যাংকার গার্ডে উদ্ধার করা হয়। তার স্বামী মোহাম্মদ আলী (বয়স ৩৫) কে একই রাতে গ্রেফতার করা হয়। মৃতদেহে গলায় ফাঁসের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে, যা হিংসাত্মক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং গৃহহিংসা সংক্রান্ত অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সুযোগ প্রদান করেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের শিকার নারীর অধিকার রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি গৃহহিংসা সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক সংস্থা ও মানবাধিকার সমিতি ঘটনাটিকে ন্যায়সঙ্গত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
গৃহবধূ রেহানা আহমেদের মৃত্যুর পূর্বে পরিবারে গৃহহিংসার অভিযোগের রেকর্ড ছিল। তার স্বামী মোহাম্মদ আলী পূর্বে দু'বার গৃহে শারীরিক হিংসা ও হুমকির অভিযোগে প্রতিবেশীদের কাছে অভিযোগ করেছিল, তবে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নাখালপাড়া, যা শহরের পুরনো ও জনবহুল এলাকা, সেখানে গৃহহিংসা ও পারিবারিক সংঘাতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি রেকর্ড হয়েছে। স্থানীয় গৃহহিংসা হটলাইন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই এলাকায় গৃহবধূদের মৃত্যুর সংখ্যা ১৫টি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই পটভূমি ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একক অপরাধ নয়, বরং গৃহহিংসা মোকাবেলায় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরে।
পুলিশের মুখপাত্র অধিকারী রশিদুল ইসলাম জানান, "মৃতদেহে পাওয়া ফাঁসের দাগের ভিত্তিতে হিংসাত্মক হস্তক্ষেপের সন্দেহ রয়েছে; ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়া মাত্রই মামলার আইনি দিক স্পষ্ট হবে।" রেহানার আত্মীয়স্বজনের মুখে শোক ও ক্রোধের মিশ্রণ দেখা যায়; তারা দাবি করেন, "যদি আগে হস্তক্ষেপ করা হতো, তবে রেহানা আজ বেঁচে থাকত।" মানবাধিকার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "গৃহহিংসা মামলায় প্রাথমিক হস্তক্ষেপের অভাব এবং প্রমাণ সংগ্রহের দেরি অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।" সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া তীব্র, বহু নাগরিক গৃহহিংসা শিকারদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঘটনাটির তদারকি করার জন্য যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিযুক্ত হয়েছেন, যিনি দ্রুত ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, গৃহহিংসা প্রতিরোধে নতুন হটলাইন ও জরুরি সুরক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি গৃহহিংসা মামলায় দ্রুত গ্রেফতার ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে গৃহবধূদের সুরক্ষার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।