নির্বাচনের আগের দিন, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। বিএনপি প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনী অফিসারদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে তোলেন, আর জামায়াতের প্রার্থী ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। উভয় পক্ষই দাবি করেন যে এই অভিযোগগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুন্ন করবে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কারণ নির্বাচন মাত্রই কয়েক দিন দূরে এবং উভয় দলই জয়লাভের জন্য তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছে।
এই ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত নির্বাচনে উভয় দলই উল্লেখযোগ্য ভোটের পার্থক্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জামায়াতের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আইনি সীমাবদ্ধতা এবং বিএনপির দীর্ঘকালীন বিরোধী-সরকারের ভূমিকা এই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতের নির্বাচনী অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটার পরিচয়পত্রের বৈধতা এবং নির্বাচনী কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্বাচনী হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
বিএনপি প্রার্থী স্থানীয় মিডিয়ায় জানান, "আমাদের দলকে অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে"। জামায়াতের প্রার্থীও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "ভোটার তালিকায় আমাদের সমর্থকদের নাম না থাকা নির্বাচনকে অবৈধ করে তুলবে"। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, "আমরা সকল অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব"। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে, "যদি এই অভিযোগগুলো সমাধান না হয় তবে ভোটারদের বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি দুর্বল হবে"। সাধারণ জনগণও এই বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় ভোটারদের মধ্যে তথ্যের অভাবের কারণে গুজবের প্রবাহ বাড়ছে।
অধিকাংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে। এছাড়া, নির্বাচনী অভিযোগের দ্রুত সমাধানের জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ওপর ত্বরিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ভোটার তালিকা ব্যবহারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে, উভয় দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে তারা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখবে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।