শাহবাগ থানা আজ বিকেলে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী হল। থানা কর্তব্যরত উপপরিদর্শক আবদুল খালেকের জানামতে, আয়াস নামের এক অপরাধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মানসূচক গ্রাফিতি মুছে দিতে চেয়ে চুনকালি ব্যবহার করে কাজ শুরু করায় পুলিশ তাকে থানায় আনা হয়। গ্রাফিতিটি শহরের বহু তরুণ শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিশেষভাবে সম্মানিত। এই ঘটনার তৎকালীন ধরা পড়া এবং দ্রুত গ্রেপ্তার স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের সঞ্চার ঘটিয়েছে, কারণ এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আঘাতের রূপে বিবেচিত হচ্ছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি ২০১৯ সালে স্থানীয় শিল্পী সমিতি দ্বারা তৈরি করা হয়, যা শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। সৃষ্টিকর্মটি প্রকাশের পর থেকে বহুবার প্রশংসা পেয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন উৎসবে এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রাফিতি সংরক্ষণে অবহেলার অভিযোগ উঠে আসে, ফলে কিছু অজ্ঞ লোকের দ্বারা ক্ষতিকর কাজের সম্ভাবনা বাড়ে। এই প্রেক্ষাপটে আয়াসের কাজকে কেবল একক অপরাধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক সম্পদের অবহেলার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপপরিদর্শক আবদুল খালেকের মতে, "আয়াস গ্রাফিতি মুছে দিতে চেয়ে চুনকালি ব্যবহার করছিল, যা স্পষ্টতই অবৈধ এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের প্রতি আঘাতস্বরূপ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি প্রথমে স্বীকারোক্তি দেননি, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় শিল্পী সমিতির সভাপতি মেহেদি হাসান গ্রাফিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম আমাদের জাতীয় গর্ব, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজের কোনো জায়গা নেই।" সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন ও নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে অধিকাংশই এই ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন।
পুলিশের বর্তমান পদক্ষেপে গ্রেফতারকৃতকে অপরাধমূলক দায়ে অভিযুক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অন্তর্ভুক্ত। থানা কর্তৃপক্ষ গ্রাফিতি সংরক্ষণে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে স্থানীয় শিল্পী ও নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করা হয়েছে।