বাংলাদেশের জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিচালনার মানদণ্ড বা আইকমের আচরণবিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুসান ভাইজ। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় জাদুঘর দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই কর্মশালা দেশের জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পদগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর দেশের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, যা দেশের ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংগ্রহ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমান যুগে জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে খাপ খাওয়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইকমের আচরণবিধিমালা জাদুঘরগুলোর নীতিমালা, সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, প্রদর্শনী, গবেষণা ও জনসংযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করা জাতীয় জাদুঘরের বিশ্বস্ততা বাড়াবে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক জাদুঘর নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী জাদুঘর কর্মকর্তা, গবেষক ও সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে খাপ খাওয়ানো জাতীয় জাদুঘরের কার্যক্রমকে আরও পেশাদার ও দক্ষ করবে। এছাড়াও এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। জনসাধারণের মধ্যে জাদুঘরের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং ঐতিহাসিক সম্পদের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত।
কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন যে, এই কর্মশালার সুপারিশ ও সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় জাদুঘরের নীতিমালা ও কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই আচরণবিধিমালা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হবে। এতে করে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে একটি সমন্বিত ও কার্যকরী কাঠামো গড়ে উঠবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং জাতীয় জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করবে।