স্কয়ার ফার্মা লিমিটেড গত অর্থবছরে ১,১৫২ কোটি টাকার রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুজ্জীবিত করেছে। মোট ৮,৬০৬ কোটি টাকার ব্যবসা চালানোর পর, শুদ্ধ মুনাফা থেকে প্রাপ্ত এই লভ্যাংশের পরিমাণ শেয়ার প্রতি ৩৮ টাকার সমান, যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের দৃঢ়তা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে।
স্কয়ার ফার্মা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধের উৎপাদন ও রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত অর্থবছরে ৮,৬০৬ কোটি টাকার মোট বিক্রয় অর্জন করে, যার মধ্যে ঔষধ, ভ্যাকসিন এবং স্বাস্থ্যসেবা পণ্য অন্তর্ভুক্ত। পূর্ববর্তী অর্থবছরে লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি টাকা, যা এই বছরের ১,১৫২ কোটি টাকার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে দ্বিগুণের বেশি। কোম্পানির শুদ্ধ মুনাফা ২,৪৫৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আর্থিক উন্নতি মূলত নতুন পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে অর্জিত।
বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান ড. রাহুল চৌধুরী লভ্যাংশের ঘোষণা সম্পর্কে বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি আমাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এই লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছে, যা কোম্পানির স্থিতিশীলতা ও লাভজনকতা প্রতিফলিত করে।” শেয়ারহোল্ডার সমিতির সভাপতি মিস রুবি আহমেদও উল্লেখ করেন, “এই লভ্যাংশ আমাদের বিনিয়োগের সঠিকতা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়।” শেয়ারবাজারে স্কয়ার ফার্মার শেয়ার মূল্যে ঘোষণার পর ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক প্রত্যাশা নির্দেশ করে।
বিক্রয় ও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিএসইসি) এই লভ্যাংশের যথার্থতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধ করেছে এবং কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে। স্কয়ার ফার্মা আগামী ত্রৈমাসিকে নতুন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা ওষুধের পোর্টফোলিও বিস্তারে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, কোম্পানির লভ্যাংশ নীতি ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখলে শেয়ারহোল্ডারদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।