ঢাকা ও গাজীপুরে গতকাল সন্ধ্যায় পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দ্বারা সহিংস বিক্ষোভের পর, প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান আজ সকালে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বিক্ষোভে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং বেকারত্বের সমস্যার সমাধান দাবি করে রাস্তায় গৃহীত হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় কিছু অংশে হিংসা ও সম্পত্তি ক্ষতি ঘটেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাইফেল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুনাম রক্ষার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পোশাক শিল্প বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস এবং দেশের মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ অবদান রাখে। গত বছর থেকে শ্রমিকদের বেতন ও কাজের শর্ত নিয়ে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া, অতিরিক্ত কাজের সময় এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাবের অভিযোগ তীব্র হয়েছে। পূর্বে ২০২২ সালে একই ধরণের বিক্ষোভে শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যুক্ত হয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কিছু অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিতে পারেনি। গাজীপুরের বৃহৎ গার্মেন্টস পার্কে শ্রমিকদের অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার অভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমান বলেন, 'শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা না করে কোনো দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়'। তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান শ্রী মোহাম্মদ আলীকে সরাসরি সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানান এবং ত্রৈমাসিক মজুরি সমন্বয় পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলতে বলা হয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগের সুর শোনা যায়; কিছু ব্যবসায়ী বিক্ষোভের ফলে উৎপাদন হ্রাসের ভয় প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে শ্রমিক পরিবারগুলো নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরির দাবি জোরদার করেছে।
অধিকর্তারা বিক্ষোভ দমন ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে, যা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুরো গাজীপুর ও ঢাকা অঞ্চলে উপস্থিত থাকবে। সরকার দ্রুত একটি ত্রৈমাসিক শ্রম নীতি প্রণয়ন করে, যার মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, কাজের সময় সীমা নির্ধারণ এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, শ্রমিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত সংলাপের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে, যার সদস্য হিসেবে শ্রমিক ইউনিয়ন, শিল্প সংস্থা এবং সরকারী প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিক্ষোভ রোধে সামাজিক সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা এবং শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য আইনগত কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।