গণসংহতি আন্দোলন তার রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের একাদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করে। উদ্বোধনী সমাবেশে আন্দোলনের প্রধান নেতা আবুল হাসান রুবেল বিশদভাবে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পরেও সাধারণ মানুষের মৌলিক জীবনের অবস্থা তেমন কোনো উন্নতি না পেয়ে যাওয়ায় আন্দোলনের লক্ষ্য পুনরায় জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত বিশাল জনসমাগম, রাস্তায় জোরে জোরে স্লোগান এবং সাদা‑কালো রঙের পতাকার সমাবেশকে দৃশ্যমান করে তুলেছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকদের সমন্বয়ে গঠিত। এই কর্মসূচি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সমগ্র বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে গৃহীত, এবং তাৎক্ষণিকভাবে জনগণের দৃষ্টিতে সরকারের নীতির বাস্তবিক প্রভাব তুলে ধরতে চায়।
গণসংহতি আন্দোলন ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা ও সমন্বয় গড়ে তোলা, পাশাপাশি ন্যায্য অর্থনৈতিক নীতি ও স্বচ্ছ শাসন নিশ্চিত করা। গত এক দশকে আন্দোলন বহু কর্মসূচি চালু করেছে, যার মধ্যে গ্রামীন উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও যুব কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত। তবে, ২০২২ সালে সরকার বদলানোর পর থেকে নীতি পরিবর্তনের গতি ধীর হওয়ায় আন্দোলনের কিছু মূল দাবি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পটভূমিতে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে পূর্ববর্তী অর্জনগুলো পুনর্মূল্যায়ন এবং নতুন কৌশল নির্ধারণ করা যায়।
উদ্বোধনী সমাবেশে আবুল হাসান রুবেল ছাড়াও আন্দোলনের অন্যান্য নেতারা, সমাজকর্মী ও একাডেমিক বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রকাশ করেন। রুবেল উল্লেখ করেন, “সরকারের পরিবর্তন সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন না আসা আমাদের কাজকে আরও জরুরি করে তুলেছে।” এক অর্থনীতিবিদ বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রধান কারণ।” সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু লোক আন্দোলনের প্রতি আশাবাদী, আবার অন্যরা সরকারের নীতির প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করে। সামাজিক মিডিয়ায়ও এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যেখানে নাগরিকরা তাদের দৈনন্দিন সমস্যার কথা তুলে ধরছেন।
অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, গণসংহতি আন্দোলনের এই উদ্যোগকে সরকারী নীতির পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারী প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে বলছেন, “আমরা সকল সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।” ভবিষ্যতে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির শেষের দিকে একটি বৃহৎ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে। এই আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলন তার দাবিগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে এবং সরকারের কাছ থেকে বাস্তবিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করবে। শেষ পর্যন্ত, এই কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে এবং জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে একটি কাঠামোগত পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।