গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের একটি গোপন গুদামে ১৫ জন শিশুর অবৈধ বিক্রির নথি আবিষ্কৃত হয়। পুলিশ ও ফরেনসিক টিমের সমন্বয়ে গৃহীত অপারেশনে ৪০টি চুক্তি ও ৭০টি ব্যাংক লেনদেনের রেকর্ড উদ্ধার করা হয়। এই নথিগুলোতে দেখা যায় যে, বিক্রয়কারী ও ক্রেতা উভয়ই প্রায়শই একই সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমির। ঘটনাটি প্রকাশের পর সমাজে ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগের ঢেউ ওঠে।
শিশু বিক্রির এই গোপন নেটওয়ার্কের মূল কারণ হলো অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও শিক্ষার অভাব। অনেক পরিবার, যারা নিজস্ব সন্তানকে শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে অক্ষম, তারা বিক্রির মাধ্যমে সাময়িক আর্থিক সহায়তা পেতে চায়। এছাড়া, কিছু দালাল ও মধ্যস্থতাকারী এই প্রক্রিয়াকে লাভজনক ব্যবসায় রূপ দিয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের লেনদেনের ৬০% ক্ষেত্রে পিতামাতার সম্মতি বা জ্ঞাতসারে ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এই নেটওয়ার্কের মূল কাঠামো ভেঙে ফেলেছি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করেছি।’ এনজিও ‘শিশু রক্ষা ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালক রিয়া আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’ জনগণের মধ্যে ভয় ও অবিশ্বাসের ছায়া পড়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে এই ধরনের লেনদেনের ঘটনা বেশি।
সরকারি বিভাগগুলো বর্তমানে আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন বিধি প্রণয়ন করছে। শিশু অধিকার মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের মধ্যে ‘শিশু বিক্রয় ও পাচার প্রতিরোধ আইন’ পাস করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, পুলিশ ও আদালতকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নজরদারি প্রযুক্তি উন্নত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে এই ধরনের অপরাধের মূল কারণ দূর করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।