বিশ্বের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক সম্মান নোবেল পুরস্কার রসায়ন শাখায় প্রদান করা হয়েছে দুই বাংলাদেশি গবেষকের, যারা অণুর ডান‑বাম (চিরালিটি) রহস্য উন্মোচন করে অণু স্তরে নতুন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বিকাশে সফল হয়েছেন। এই অর্জন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ে বিশাল সাড়া ফেলেছে এবং দেশের বিজ্ঞান নীতির জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে গর্বের ঢেউ তোলা হয়েছে, যা বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।
চিরালিটি ধারণা প্রথমে ১৯০০ দশকে রসায়ন জগতে পরিচিত হয়, তবে অণু স্তরে ডান‑বাম পার্থক্য নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্য ছিল। গবেষক দলটি গত দশকে অণু গঠন বিশ্লেষণ, উচ্চ রেজোলিউশন স্পেকট্রোস্কপি এবং কম্পিউটেশনাল মডেলিং সমন্বিত পদ্ধতি অবলম্বন করে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। তাদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক শীর্ষ জার্নালে প্রকাশের পর বহু বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে আলোচিত হয় এবং বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োগের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. রাহিম উদ্দিন এবং ড. সুমাইয়া চৌধুরীর মতে, এই আবিষ্কার অণু স্তরে নির্ভুলতা বৃদ্ধি করে ওষুধের কার্যকারিতা, কৃষি রসায়ন এবং পরিবেশগত বিশ্লেষণে বিপ্লব ঘটাবে। দেশের বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সাফল্যকে জাতীয় গর্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ বাড়াতে নতুন স্কলারশিপ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক রসায়ন সংস্থা এই দুই বিজ্ঞানীর কাজকে ‘অণু নকশার নতুন যুগের সূচনা’ বলে প্রশংসা করেছে।
সরকার ইতিমধ্যে এই সাফল্যের ভিত্তিতে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, উচ্চতর গবেষণা অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে রসায়ন গবেষণায় ৫০ শতাংশ তহবিল বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে চিরালিটি ভিত্তিক ওষুধ উন্নয়ন ও সবুজ রসায়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেবে। এছাড়া, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশীয় শিল্পে প্রযুক্তি স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করা হবে।