যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে একটি নতুন কর্মদল গঠন করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই কর্মদলটি বিশেষভাবে ইরানের স্থলসীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগরের ওপর নজর রাখবে, যাতে অবৈধ অস্ত্রবাণিজ্য রোধ করা যায়। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত ইরানের সামুদ্রিক সরবরাহ চ্যানেল, বিশেষ করে হেমসের গলফ ও পারস্য উপসাগরে নজর দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে স্থলসীমান্তে সরবরাহের পথ বিস্তৃত করেছে, যার মধ্যে তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান এবং রাশিয়ার সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে। এই পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মদলটি স্থলসীমান্তে গোপন গুদাম, গুদামঘাট এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, কর্মদলটি ইন্টার‑ইন্টারগভর্নমেন্টাল সমন্বয়, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে “অবৈধতা ও হস্তক্ষেপের নতুন রূপ” বলে সমালোচনা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমাধান চায়। তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজান সরকারও এই কর্মদলের কার্যক্রমকে স্বাগত জানায়, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো পদক্ষেপে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদি কার্যকরী পর্যবেক্ষণ না করা হয় তবে অবৈধ সরবরাহের পথ পুনরায় গঠন হতে পারে।
কর্মদলের গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা সংস্থা, নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল এবং সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট অন্তর্ভুক্ত হবে। তারা কাস্পিয়ান সাগরের জাহাজ চলাচল, স্থলসীমান্তে গুদামঘাটের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং শিপিং ডকুমেন্টের বিশ্লেষণ করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে, যাতে সরবরাহ চেইনের প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে এই কর্মদলটি ইরানের অস্ত্র সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করে, লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্য রাখবে।